ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের আটকে দিল ফুটবলের এক চিলতে দ্বীপ, কেপ ভার্দের ডিফেন্সে বন্দি স্পেন!

ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের আটকে দিল ফুটবলের এক চিলতে দ্বীপ, কেপ ভার্দের ডিফেন্সে বন্দি স্পেন!

বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে ডেভিড বনাম গোলিয়াথের গল্প বারবার ফিরে আসে। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ঠিক তেমনই এক রূপকথার জন্ম দিল টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দে। ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তথা বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপের মূলপর্বে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই ইতিহাস লিখে ফেলল আফ্রিকার এই লড়াকু দলটি। মাঠে ৭০ শতাংশেরও বেশি সময় বল দখলে রেখেও কেপ ভার্দের জমাট ডিফেন্স ও অতিমানবীয় গোলকিপিংয়ের দেওয়াল ভাঙতে পারলেন না লামিন ইয়ামাল, ফেরান তোরেসরা।

কৌশলের লড়াইয়ে বাজিমাত লো ব্লকের

ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে আক্রমণাত্মক কৌশল বেছে নিয়েছিলেন। ফেরান তোরেস, মিকেল ওয়ারজাবাল ও আলেক্স বায়েনাকে সামনে রেখে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ রড্রিকে সঁপে দেয় স্পেন। কিন্তু স্প্যানিশদের চেনা টিকিটাকা বা ছোট ছোট পাসের ফুটবলকে অকেজো করতে কেপ ভার্দে বেছে নেয় ‘লো ব্লক’ ডিফেন্সের কৌশল। পুরো দল নিজেদের অর্ধে নেমে এসে স্পেনের আক্রমণের জায়গা ছোট করে দেয়।

প্রথমার্ধের ১২ মিনিটে বায়েনার বাঁকানো শট এবং ২৭ মিনিটে ওয়ারজাবালের জোরালো হেড কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা অবিশ্বাস্য দক্ষতায় প্রতিহত করেন। স্পেনের একের পর এক আক্রমণ ভাঙার পাশাপাশি মাঝে মাঝে কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে স্প্যানিশ রক্ষণকেও চাপে ফেলেছিল তারা। কেপ ভার্দের জোভানের গতি সামলাতে বেশ বেগ পেতে হয় স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনকে।

ইয়ামাল ম্যাজিকেও কাটল না জট

দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের চিত্রনাট্য বদলায়নি। ৫৩ মিনিটে তোরেসের পাস থেকে পেড্রির নিশ্চিত গোলমুখী শট ব্লক করে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডাররা। এর ঠিক পাঁচ মিনিট পর আবারও স্পেনের আক্রমণ রুখে দেন ম্যাচের অন্যতম সেরা তারকা ভোজিনহা। গোলখরা কাটাতে এবং দলের বিপদ এড়াতে ম্যাচের ৭০ মিনিটে ইনজুরি থেকে সদ্য ফেরা তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামালকে মাঠে নামান স্প্যানিশ কোচ। তবে ইয়ামালের মাঠে আগমনও কেপ ভার্দের ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগে কোনো ফাটল ধরাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় ম্যাচটি।

খাদের কিনারায় স্পেন, ফুরফুরে কেপ ভার্দে

প্রথম ম্যাচেই এমন অপ্রত্যাশিত ড্রয়ের ফলে গ্রুপ পর্বে বেশ বড়সড় বিপদে পড়ে গেল হট-ফেভারিট স্পেন। টুর্নামেন্টের পরের রাউন্ডে যাওয়ার পথ মসৃণ করতে এখন তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে জয়ের কোনো বিকল্প নেই। অন্যদিকে, শক্তির বিচারে শত যোজন পিছিয়ে থেকেও প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে এসে স্পেনের মতো পরাশক্তিকে রুখে দেওয়া কেপ ভার্দের জন্য এক বিশাল মানসিক বুস্টার। এই ১ পয়েন্ট তাদের নক-আউট পর্বের স্বপ্নকে যেমন বাঁচিয়ে রাখল, তেমনই বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে যোগ করল এক গৌরবময় অধ্যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *