সরকারি কর্মীদের জন্য বড় খবর! এবার সবার আগে বাড়িতে বসবে স্মার্ট মিটার, কড়া নজর নবান্নর

সরকারি কর্মীদের জন্য বড় খবর! এবার সবার আগে বাড়িতে বসবে স্মার্ট মিটার, কড়া নজর নবান্নর

কলকাতা: রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে নবান্ন। সাধারণ মানুষের আগে এবার ধাপে ধাপে সরকারি কর্মীদের বাড়িতে ‘স্মার্ট মিটার’ বসানোর প্রস্তুতি শুরু করে দিল রাজ্য সরকার। এই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে সম্প্রতি বিদ্যুৎ দফতরের প্রধান সচিব একটি জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন অর্থ দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবকে। গত ১০ জুন রাজ্যের মুখ্যসচিবের জারি করা কড়া নির্দেশিকার ভিত্তিতেই এই মেগা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কী কী তথ্য জমা দিতে হবে কর্মীদের?

বিদ্যুৎ দফতর সূত্রে খবর, সরকারি কর্মীদের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ যাতে কোনও বাধা ছাড়া সম্পন্ন করা যায়, তার জন্য কর্মীদের একগুচ্ছ ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্য চাওয়া হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাটে যে সমস্ত তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে, সেগুলি হলো:

  • কর্মচারীর এইচআরএমএস (HRMS) আইডি ও নাম
  • স্থায়ী এবং বর্তমান বাসস্থানের ঠিকানা
  • কর্মস্থলের নাম, অফিসের ঠিকানা এবং ‘হেড অফ অফিস’ কোড
  • সংশ্লিষ্ট কর্মী সরকারি বাড়িভাড়া ভাতা (HRA) পান কি না, সেই সংক্রান্ত তথ্য।

শুধু মূল সরকারি দফতরই নয়, রাজ্য সরকারের অধীনস্থ সমস্ত স্বশাসিত সংস্থা, নিগম (Corporation) এবং সরকারি উদ্যোগ সংস্থাগুলির কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। দ্রুত তথ্য সংগ্রহের জন্য অর্থ দফতরের কাছে এই সংস্থাগুলির একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকাও চেয়েছে বিদ্যুৎ দফতর।

হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত?

নবান্নের শীর্ষস্তরের আধিকারিকদের মতে, বিদ্যুৎ ব্যবহারে ১০০ শতাংশ স্বচ্ছতা আনা, বিদ্যুতের অপচয় কমানো এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবা চালু করার লক্ষ্যেই এই বৃহৎ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্যভান্ডার বা ডেটাবেস হাতে এলেই রাজ্যজুড়ে সরকারি কর্মীদের বাড়িতে মিটার বসানোর মূল কাজ পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে।

শুরু হয়েছে জোরদার বিরোধিতা:

সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সরকারি কর্মীদের একাংশ। শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিরোধিতা। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে বলেন, “বিভিন্ন মহল থেকে স্মার্ট মিটারের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি ও প্রতিবাদ জানানো সত্ত্বেও সরকার নিজের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ওপর জোর করে এটা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাব।” সব মিলিয়ে, স্মার্ট মিটার বসানো নিয়ে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতি যে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *