‘এবার ৬৫!’ বিধানসভায় ফিরহাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বিস্ফোরক দাবি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতর

‘এবার ৬৫!’ বিধানসভায় ফিরহাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বিস্ফোরক দাবি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতর

কলকাতা: ছাব্বিশের ভোটের পর বাংলার রাজনীতিতে ভাঙন ও দলবদলের খেলা যেন থামতেই চাইছে না। এবার খোদ বিধানসভার ভেতরেই তৈরি হলো এক চরম নাটকীয় মুহূর্ত। সোমবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে তাঁর সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসলেন তৃণমূল বিধায়ক তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। আর এই বৈঠকের পরই রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে ঋতব্রত ঘোষণা করলেন— তাঁদের শিবিরে বিদ্রোহী বিধায়কদের সংখ্যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫-তে!

সোমবার সকাল থেকেই ফিরহাদ হাকিমকে ঘিরে নাটকীয়তা ছিল তুঙ্গে। সকালে তিনি কলকাতা পুরসভার একটি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীও। সেই বৈঠক শেষ করেই সোজা বিধানসভার উদ্দেশে রওনা দেন ফিরহাদ। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, তাঁর গাড়ির ঠিক পেছনেই বিধানসভায় আসেন আরেক তৃণমূল ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক সন্দীপন সাহা। দুজনে একসঙ্গেই বিধানসভায় প্রবেশ করেন।

বিধানসভার অন্দরে বৈঠক ও সমীকরণ:

বিধানসভায় পৌঁছে প্রথমে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথাবার্তা বলেন ফিরহাদ। এর পরেই সন্দীপনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সটান ঢুকে পড়েন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কক্ষে। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন আরও কয়েকজন বিদ্রোহী বিধায়ক।

দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই হাইপ্রোফাইল বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বোমা ফাটান। তিনি বলেন, “আজ আরও এক বিধায়ক সই করলেন। আজ আমাদের সংখ্যা ৬৫-তে পৌঁছাল। তিনি স্পিকারকেও চিঠি দিয়েছেন।” ফিরহাদের উপস্থিতি নিয়ে ঋতব্রতর মন্তব্য, “আজ ফিরহাদ হাকিমও এসেছিলেন। তিনি আমাদের বৈঠকে ছিলেন। উনি আমার অভিভাবক।” তবে নতুন সই করা ৬৫ নম্বর বিধায়কটি খোদ ফিরহাদ হাকিম কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন ঋতব্রত।

তৃণমূল শিবিরে অস্বস্তি:

উল্লেখ্য, ঋতব্রত ও তাঁর অনুগামী বিধায়করা ইতিমধ্যেই বিধানসভায় বিরোধী দলের ‘আসল মালিকানা’ বা স্বীকৃতি লাভ করেছেন। প্রাথমিকভাবে এই শিবিরে ৫৮ জন বিধায়ক থাকলেও, তা ধাপে ধাপে বেড়ে ৬৪ এবং আজ আরও একজন যুক্ত হয়ে ৬৫-তে পৌঁছাল।

অন্যদিকে, লোকসভার ২০ জন তৃণমূল ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের এনসিপিআই (NCPI)-এর সঙ্গে মিশে যাওয়ার জল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ঋতব্রত জানান, “আমরা এনসিপিআই সম্পর্কে শুনেছি, তবে এ নিয়ে আমাদের কারও কোনও স্পষ্ট ধারণা নেই।” একইসঙ্গে তিনি পরিষ্কার করে দেন যে, তাঁদের এই বিদ্রোহী বিধায়ক শিবিরটি এখনও পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগ দেয়নি। তবে ফিরহাদের মতো হেভিওয়েট নেতার এই বৈঠক ঘাসফুল শিবিরের উদ্বেগ যে আরও বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *