আমাকে একা থাকতে দাও! বন্ধুত্বের সুযোগে ধর্ষণ ও জোর করে ধর্মান্তরের ভয়ানক কাণ্ড

মহারাষ্ট্রের নাগপুর থেকে সামনে এল এক হাড়হিম করা ও চাঞ্চল্যকর অপরাধের খতিয়ান। ভারতীয় বিমান বাহিনীর (IAF) এক কর্মকর্তার ২৪ বছর বয়সী স্ত্রীকে মাদক খাইয়ে যৌন নির্যাতন, আপত্তিকর ভিডিও বানিয়ে লক্ষাধিক টাকা ব্ল্যাকমেইল এবং শেষ পর্যন্ত তন্ত্র-মন্ত্রের মাধ্যমে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নির্যাতিতার কান্নার ভিডিও ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্তসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে।
The wife of an army man was drugged, gang-raped and filmed by Ayyaz Taj Madare and Ameen Shaikh on the pretext of a land deal in Nagpur.
— The Jaipur Dialogues (@JaipurDialogues) June 15, 2026
Blackmailed, extorted for lakhs, forced to drink halal liquid, chant verses, converted by Hazrat Maulana in Chhindwara, MP, "nikah" to Ayyaz,… pic.twitter.com/hXKfb6luxt
বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে হোটেলে ডেকে সর্বনাশের ছক
পুলিশের কাছে দায়ের হওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, নির্যাতিতা ওই তরুণী নাগপুরে একজন সম্পত্তি ব্যবসায়ী (Property Dealer) হিসেবে কাজ করেন। তাঁর স্বামী বিমান বাহিনীর একজন কর্মকর্তা এবং কর্মসূত্রে বর্তমানে অন্য শহরে কর্মরত। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মহিলার পুরোনো সহপাঠী আয়াজ তাজ মাদারে (২৬) তাঁর সাথে যোগাযোগ করে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে হয়েছিল:
- জমির ব্যবসার অজুহাত: একটি প্লট কেনার অজুহাতে ব্যবসার আলোচনার নাম করে ওই তরুণীকে ওয়ার্ধা রোডের একটি হোটেলে আমন্ত্রণ জানায় অভিযুক্ত আয়াজ।
- অচেতন করে ধর্ষণ: হোটেলে পৌঁছানোর পর তরুণীকে নেশাজাতীয় দ্রব্য মেশানো একটি ঠান্ডা পানীয় বা জুস খেতে দেওয়া হয়। তিনি অচেতন হয়ে পড়লে আয়াজ তাঁকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করে এবং সেই অবস্থার কিছু অত্যন্ত আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও রেকর্ড করে রাখে।
ব্ল্যাকমেইল, ৩ লক্ষ টাকা আদায় এবং তান্ত্রিক আচারের নির্মমতা
জ্ঞান ফেরার পর নিজের এই অবস্থা দেখে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই গৃহবধূ। কিন্তু অপরাধের এখানেই শেষ ছিল না। এরপর শুরু হয় লাগাতার মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন।
নির্যাতনের চরম রূপগুলি নিচে দেওয়া হলো:
- টাকা আদায়: আপত্তিকর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দফায় দফায় ওই মহিলার কাছ থেকে প্রায় ৩.০৯ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় অভিযুক্ত আয়াজ।
- জোরপূর্বক ধর্মান্তরের ছক: ২০২৫ সালের মে মাসে নির্যাতনের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। আয়াজ ওই মহিলাকে নাগপুরের কালমেশ্বর এলাকায় নিয়ে গিয়ে আমিন শেখ এবং মধ্যপ্রদেশের এক তথাকথিত মাওলানার সাথে পরিচয় করায়।
- নির্জন স্থানে তান্ত্রিক আচার: তিন অভিযুক্ত মিলে মহিলাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক কিছু অঘোরী ও তান্ত্রিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে বাধ্য করে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে এই নির্জন জায়গার পুরো দৃশ্যটি ধরা পড়েছে, যা দেখে শিউরে উঠেছেন নেটিজেনরা।
ভিডিওটিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, মহিলাটি চরম আতঙ্কে কাঁদছেন এবং “আমাকে ছেড়ে দাও, একা থাকতে দাও!” বলে চিৎকার করছেন। কিন্তু অভিযুক্ত আয়াজ জোর করে তাঁর হাত ধরে রেখে বিভিন্ন ধর্মীয় মন্ত্র পাঠ করছে এবং তাঁর মুখে ফুঁ দিচ্ছে। এই তান্ত্রিক নাটকের পর তারা দাবি করে মহিলার ধর্মান্তর সম্পূর্ণ হয়েছে এবং ফের তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়।
স্বামীর কাছে মুখ খোলা ও পুলিশের বড় পদক্ষেপ
এই ঘটনার পর ওই তরুণী এতটাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং আতঙ্কিত ছিলেন যে ভয়ে কয়েক মাস সম্পূর্ণ চুপচাপ ছিলেন। তবে সম্প্রতি তাঁর সেনাকর্মী স্বামী ডিউটি সেরে বাড়ি ফিরলে তিনি সাহস সঞ্চয় করে কাঁদতে কাঁদতে সমস্ত ঘটনার কথা খুলে বলেন। স্ত্রীর ওপর হওয়া এই অমানুষিক অত্যাচারের কথা শুনে স্বামী কালবিলম্ব না করে তাঁকে সোনেগাঁও থানায় নিয়ে যান এবং একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলার গুরুত্ব ও স্পর্শকাতরতা বিবেচনা করে নাগপুর পুলিশ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রধান অভিযুক্ত আয়াজ তাজ মাদারে এবং তার সহযোগী আমিন শেখকে ইতিমধ্যেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আদালত ধৃতদের ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এই চক্রের তৃতীয় অভিযুক্ত তথা মধ্যপ্রদেশের ওই পলাতক মাওলানাকে পাকড়াও করতে একটি বিশেষ পুলিশি দল ভিন রাজ্যে অভিযান চালাচ্ছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক ধর্মান্তরের চেষ্টা এবং মহারাষ্ট্রের কঠোর কালো জাদু বিরোধী আইনে সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে।