এবার কয়লা-বালির পর ৩০০ কোটির ‘মাটি চুরি’! ক্ষমতা বদলাতেই চরম আইনি প্যাঁচে অভিষেক

ডায়মন্ড হারবার: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই একের পর এক আইনি মামলায় জেরবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়লা, বালি, রেশন কিংবা নিয়োগ দুর্নীতির পর এবার তাঁর নাম জড়াল এক নজিরবিহীন ‘মাটি কেলেঙ্কারি’-তে। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা এলাকায় বেআইনিভাবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার মাটি কেটে চড়া দামে বাজারে বিক্রি করার অভিযোগে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করা হলো।
সোমবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কালীতলা আশুলিয়া থানায় লিখিতভাবে এই গুরুতর অভিযোগটি দায়ের করেছেন ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা অভিজিৎ বিশ্বাস ওরফে ববি। তবে শুধু তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডই নন, এই মামলায় নাম জড়িয়েছে আরও একাধিক হেভিওয়েটের। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায় এবং বিষ্ণুপুরের বর্তমানে জেলবন্দি তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলসহ মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
প্রশাসনের নাকের ডগায় ২০১৭ থেকে চলছিল কোটি কোটি টাকার কারবার!
বিজেপি নেতা অভিজিৎ বিশ্বাসের অভিযোগ, এই মাটি চুরির সাম্রাজ্য রাতারাতি গড়ে ওঠেনি। ২০১৭ সাল থেকেই ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে দেদার মাটি কাটা হচ্ছিল। সেই কেটে নেওয়া মাটি পরবর্তীকালে চড়া দামে বাজারে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
বিজেপি নেতা আরও দাবি করেন, ইতিপূর্বে এই বেআইনি মাটি কাটার বিরুদ্ধে তাঁরা একাধিকবার সরব হয়েছিলেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থও হয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময় রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় থাকায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক প্রতিপত্তির কারণে পুলিশ বা কোনও প্রশাসনিক স্তর থেকেই এই অভিযোগকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, উপগ্রহ চিত্র (Satellite Image) এবং বিভিন্ন নথিপত্র খতিয়ে দেখলে স্পষ্ট বোঝা যাবে যে, এই মাটি চুরির মাধ্যমে অন্তত ৩০০ কোটি টাকারও বেশি দুর্নীতি করা হয়েছে।
ক্ষমতা বদলাতেই খুলল পুরনো ফাইল:
রাজনৈতিক মহলের মতে, যতদিন রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসন ছিল, ততদিন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে এই ধরনের কোনও স্থানীয় আইনি জটিলতা বা পুলিশি হেনস্থার মুখোমুখি হতে হয়নি। তবে ৪ মে রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর থেকেই পরিস্থিতি আমূল বদলে গিয়েছে। প্রশাসনের ওপর থেকে পুরনো রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ আলগা হতেই বহু চাপা পড়া ফাইল ও অভিযোগ আবার সামনে আসতে শুরু করেছে।
কয়লা পাচারকাণ্ড থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি এবং ত্রিপল চুরির মতো মামলার তদন্ত যখন ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাত ধরে চলছে, তখন স্থানীয় থানায় এই ৩০০ কোটি টাকার মাটি কেলেঙ্কারির নতুন অভিযোগ অভিষেকের ওপর আইনি চাপ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।
কালীতলা আশুলিয়া থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজেপি নেতার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ইতিমধ্যেই নথিপত্র খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে ক্ষমতা বদলের আবহে ডায়মন্ড হারবারের এই ‘মাটি কেলেঙ্কারি’ যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করবে, তা নিশ্চিত।