মহাশক্তিশালী স্পেনকে রুখে বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস গড়ল পুঁচকে কেপ ভার্দে, নায়ক ভোজিনহার চোখে জল!

মহাশক্তিশালী স্পেনকে রুখে বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস গড়ল পুঁচকে কেপ ভার্দে, নায়ক ভোজিনহার চোখে জল!

ফিফা বিশ্বকাপে ফুটবল বিশ্ব দেখল এক অবিশ্বাস্য রূপকথা। আটলান্টা স্টেডিয়ামে মহাশক্তিশালী ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে কার্যত একা হাতে রুখে দিল আফ্রিকার ছোট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। আর এই ঐতিহাসিক ড্রয়ের নেপথ্য নায়ক দলটির ৪০ বছর বয়সী গোলকিপার জোসিমার দিয়াস, যিনি ফুটবল বিশ্বে ‘ভোজিনহা’ নামে পরিচিত। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই নব্বই মিনিটের অতিপ্রাকৃতিক লড়াইয়ের চাপ কাটিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই অভিজ্ঞ কিপার। পুরো ম্যাচে স্পেনের বিশ্বসেরা আক্রমণভাগের সাত-সাতটি নিশ্চিত গোল আটকে দিয়ে নিজের দেশের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই ম্যান অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

কান্নার আড়ালে দীর্ঘ লড়াই ও বঞ্চনার ইতিহাস

ভোজিনহার এই চোখের জলের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের মাত্র পঞ্চাশ লক্ষ জনসংখ্যার দেশ কেপ ভার্দেতে ফুটবলের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। শৈশবে কম উচ্চতার কারণে বারবার দল থেকে বাদ পড়া এই ফুটবলারের পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল বেশ দেরিতে, ২৫ বছর বয়সে। এরপর পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া, সাইপ্রাসের মতো বিভিন্ন দেশের লিগে খেলে নিজেকে টিকিয়ে রেখেছেন। অবশেষে ৪০ বছর ১২ দিন বয়সে মাঠে নেমে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক অভিষেককারী খেলোয়াড় হিসেবে নজির গড়লেন। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত ভোজিনহা জানান, এই সাফল্যের রাতে তাঁর মনে পড়ছে প্রয়াত দাদু-দিদার কথা, যাঁদের কাছে তিনি বড় হয়েছেন। একই সঙ্গে মায়ের ভিসার টাকা জোগাড় করতে না পেরে আমেরিকায় আসতে না পারার আক্ষেপও ছুঁয়ে গেছে তাঁকে।

ঐতিহাসিক ড্রয়ের কারণ ও বিশ্ব ফুটবলে এর সম্ভাব্য প্রভাব

স্পেনের মতো পরাশক্তিকে আটকে দেওয়ার মূল কারণ ছিল কেপ ভার্দের জমাট রক্ষণভাগ এবং গোলপোস্টের নিচে ভোজিনহার অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতা। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পেনের একের পর এক আক্রমণ যেভাবে ভোজিনহা প্রতিহত করেছেন, তা চলতি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। এই ফলাফলের সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে গ্রুপ পর্বের সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেল। স্পেনের মতো বড় দলের জন্য আগামী ম্যাচগুলোর চাপ যেমন বৃদ্ধি পেল, তেমনি বিশ্বমঞ্চে কেপ ভার্দের মতো ছোট দলগুলোর আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। এই ম্যাচ প্রমাণ করল যে আধুনিক ফুটবলে কেবল নাম নয়, মাঠের লড়াইটাই শেষ কথা। ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের মন জয় করা কেপ ভার্দের নায়কের কণ্ঠেও ঝরল সেই প্রত্যয়, যেখানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন যে তাঁরা শুধু বিশ্বকাপ উপভোগ করতে নন, বরং লড়তে এসেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *