অভিষেকের কি তবে জেলযাত্রা আসন্ন? দিলীপ ঘোষের মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

অভিষেকের কি তবে জেলযাত্রা আসন্ন? দিলীপ ঘোষের মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য তদন্তকারী সংস্থাগুলির টানা জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে রাজ্য রাজনীতি এখন চরম উত্তপ্ত। এই আবহেই অভিষেকের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, তদন্ত সঠিক পথে চললে আগামী দিনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও দুর্নীতির দায়ে শ্রীঘরে যেতে হতে পারে। সম্প্রতি দলীয় এক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, “সবে শুরু হয়েছে। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে কেউ আগে পৌঁছবে, কেউ পরে পৌঁছবে। রাস্তা তো খোলাই আছে!”

আইনি বেড়াজালে ঘাসফুল শিবির

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সম্প্রতি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই নির্বাচন চলাকালীন উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে সিআইডি-র তলবে তাঁকে হাজিরা দিতে হয়েছে ভবানীভবনে। কেবল নিয়োগ বা উস্কানিমূলক মন্তব্যই নয়, কয়লা পাচার মামলা থেকে শুরু করে আমফানের ত্রাণ দুর্নীতি এবং সম্প্রতি প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বেআইনি মাটি পাচারের গুরুতর অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা। একের পর এক মামলার এই চাপ শাসক শিবিরের অস্বস্তি যে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

ভয় ভাঙছে আমজনতার

দিলীপ ঘোষের মতে, অতীতে মানুষ ভয়ে শাসক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারতেন না, কিন্তু বর্তমানে সেই ভয়ের পরিবেশ কেটে গেছে। ফলে মানুষ এখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে অভিযোগ দায়ের করছেন। ফলতার তৃণমূল নেতা তথা অভিষেক ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গির খানকে গ্রেফতার করে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানোর প্রসঙ্গটি মনে করিয়ে দিয়ে দিলীপবাবু খোঁচা দেন, আগামী দিনে তদন্তের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যায় এবং কার ভাগ্যে কী ঘটে, তা সময়ই বলবে। তাঁর এই মন্তব্যের অন্তরালে অভিষেকের সম্ভাব্য গ্রেফতারির ইঙ্গিতই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক সংঘাত

আমফান ঘূর্ণিঝড়ের সময় ২৫০ কোটি টাকার ত্রাণ কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক মাটি চুরির ঘটনা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা অভিজিৎ বিশ্বাসের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি লড়াই জটিল রূপ নিয়েছে। এই মামলাগুলিতে শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, তাঁর পলাতক আপ্তসহায়ক সুমিত রায় এবং বিষ্ণুপুরের জেলবন্দি তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলসহ মোট ২৩ জনের নাম রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর এই ধারাবাহিক আইনি তৎপরতা এবং বিরোধী শিবিরের আক্রমণাত্মক মনোভাবের কারণে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত আগামী দিনে আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে, যার বড়সড় প্রভাব পড়বে রাজ্যের সামগ্রিক শাসনব্যবস্থায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *