আরটিআই করা এখন নতুন ব্যবসা! আরটিআই কর্মীকে তীব্র তিরস্কার করে জামিন খারিজ সুপ্রিম কোর্টের

আরটিআই করা এখন নতুন ব্যবসা! আরটিআই কর্মীকে তীব্র তিরস্কার করে জামিন খারিজ সুপ্রিম কোর্টের

তথ্য জানার অধিকার (RTI) আইনের অপব্যবহার নিয়ে অত্যন্ত নজিরবিহীন ও কড়া মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, আজকাল আরটিআই আবেদন করা এক ধরণের নতুন ‘ব্যবসায়’ পরিণত হয়েছে। রাস্তা তৈরির কাজে যুক্ত সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া এবং হুমকির অভিযোগে অভিযুক্ত এক তথাকথিত আরটিআই কর্মীর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে সোমবার এই কঠোর মন্তব্য করেছে শীর্ষ আদালত।

আপনি কি বড় কর্মকর্তা? আরটিআই কর্মীকে বেনজির ভর্ৎসনা

পাঞ্জাবের বাসিন্দা রাকেশ কুমার বাহল নামের এক আরটিআই কর্মী এবং তাঁর সহযোগীদের আগাম জামিনের মামলার শুনানি চলছিল সুপ্রিম কোর্টে। বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানি চলাকালীন আবেদনকারীদের তীব্র ভর্ৎসনা করে এবং সড়ক নির্মাণ কাজের তদারকি করার ক্ষেত্রে তাঁদের এক্তিয়ার নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে।

শুনানি চলাকালীন বিচারপতিদের কড়া পর্যবেক্ষণ:

  • আদালতের কড়া মন্তব্য: বিচারপতি সন্দীপ মেহতা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আরটিআই আবেদন করা এখন একটা নতুন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার রাস্তা তৈরির তহবিল ছেড়েছে এবং তারাই এই কাজের তদারকি করবে। এতে আপনার মতো তথাকথিত আরটিআই কর্মীর কোনও ভূমিকা নেই।” এই বলেই তিনি জামিনের আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেন।
  • অযাচিত হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন: বিচারপতি মেহতার বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত হয়ে বিচারপতি বিষ্ণোই আবেদনকারীকে প্রশ্ন করেন, “এই সমস্ত রাস্তা নির্মাণের তদারকি করার আপনি কে? আপনি কি কোনও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যে সেখানে গিয়ে তদারকি করবেন?”

দুর্নীতি ফাঁসের পাল্টা দাবি বনাম শ্রমিকদের হুমকির এফআইআর

আদালতে রাকেশ বাহলের আইনজীবী দাবি করেন যে, সড়ক নির্মাণ কাজের পেছনে থাকা এক বিশাল আর্থিক দুর্নীতি ফাঁস করার কারণেই তাঁর মক্কেলকে এই মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তবে মামলার এজহার বা এফআইআর (FIR) অনুযায়ী চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলি:

  • অভিযুক্ত আরটিআই কর্মী রাকেশ বাহল এবং তাঁর সহযোগী রাজীব কুমার ওরফে মিন্টু পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর জেলার বাটালা এলাকায় একটি সরকারি সড়ক নির্মাণ কাজে গিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি করেন।
  • তাঁরা সেখানে চলমান কাজে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি কাজের তত্ত্বাবধানকারী মূল ব্যক্তি এবং উপস্থিত সাধারণ শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করার জন্য সরাসরি হুমকি দেন।
  • তাঁরা শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত অপমানজনক ও জাতিগত মন্তব্য করেন এবং অভিযোগকারীকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। এই কারণে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC) এবং তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (SC/ST) আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়।

হাইকোর্টের পর সুপ্রিম কোর্টেও বড় ধাক্কা

সুপ্রিম কোর্টে আসার আগে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাকেশ বাহল। গত ১৪ই মে হাইকোর্ট তার রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, এফআইআর-এর তথ্য ও প্রমাণ অনুযায়ী সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট এবং সরাসরি ভূমিকা প্রকাশ পেয়েছে। তাই পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে তাঁকে কোনওভাবেই আগাম জামিন দেওয়া সম্ভব নয়। হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়েছিল, যা সোমবার শীর্ষ আদালতেও সম্পূর্ণ খারিজ হয়ে গেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *