আগামী ৩০ বছরেই বিশ্বনেতা হয়ে উঠবে ভারত! বড় ভবিষ্যদ্বাণী আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের

হিরো এন্টারপ্রাইজ আয়োজিত ১৮তম বিএমএল মুঞ্জল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক বড় বার্তা দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত তার সুপ্রাচীন সভ্যতার মূল্যবোধের ওপর ভর করেই আগামী দিনে বিশ্বমঞ্চে এক প্রধান নেতা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। তবে একই সঙ্গে আত্মসমীক্ষার সুরে তিনি মনে করিয়ে দেন, “আমরা অনেক দিন ধরেই বলে আসছি যে ভারতই বিশ্বগুরু বা হওয়া উচিত, কিন্তু আমার মনে হয় এই বিষয়ে আমাদের এখনও প্রস্তুতির কিছুটা অভাব রয়েছে।”
গঙ্গার মতো চিরন্তন ভারতের উন্নয়ন, ২০-৩০ বছরেই মিলবে বড় সাফল্য
মোহন ভাগবত ভারতকে এমন এক চিরস্থায়ী ও অক্ষয় সভ্যতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা যুগে যুগে অসংখ্য বৈরী আক্রমণ এবং দীর্ঘ বিদেশী শাসনকে শক্ত হাতে প্রতিহত করেছে। ভারতকে পবিত্র গঙ্গা নদীর সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, গঙ্গা যেমন প্রাচীন হওয়া সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত নতুন ধারায় নবায়িত হয়, ভারতের সভ্যতাও ঠিক তেমনই প্রবহমান ও চিরনূতন।
তাঁর বক্তব্যের প্রধান দিকগুলি:
- বিশ্বের কল্যাণ: ভারতের সার্বিক উন্নয়ন কেবল দেশের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা সমগ্র বিশ্বের উপকারে আসবে এবং বিশ্বজুড়ে প্রকৃত শান্তি ও সুখের প্রসার ঘটাবে।
- ২০-৩০ বছরের লক্ষ্য: ভারতের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশ করে আরএসএস প্রধান ভবিষ্যদ্বাণী করেন, আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ভারত নিশ্চিতভাবেই একটি বিশ্বনেতা হয়ে উঠতে পারে।
- তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান: ভারতকে মানবজাতির পথপ্রদর্শক হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি দেশের যুবসমাজকে নিঃস্বার্থ সেবা, গভীর দেশপ্রেম এবং চারিত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।
মার্কিন অন্ধ অনুকরণে চরম বিপদ, পরিবেশ নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা
বিশ্বজুড়ে চলমান পরিবেশের অবক্ষয় এবং অনিয়ন্ত্রিত ভোগবাদী মানসিকতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোহন ভাগবত। উন্নত দেশগুলির অন্ধ অনুকরণ ও জীবনযাত্রার ধরন অনুসরণের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দেন তিনি।
“যদি ভারতের সমস্ত সাধারণ মানুষ আমেরিকার নাগরিকদের মতো মাত্রাতিরিক্ত সম্পদ ও বিলাসিতা ভোগ করা শুরু করে, তবে মানবজাতির টিকে থাকার জন্য একটি পৃথিবী যথেষ্ট হবে না, একাধিক পৃথিবীর প্রয়োজন পড়বে।”
— মোহন ভাগবত, আরএসএস প্রধান
তিনি বিশ্বব্যাপী আন্তঃসংযোগের চেতনার পক্ষে সওয়াল করেন, যেখানে প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাঁচার ভারতীয় সনাতন দর্শনের প্রতিফলন ঘটে।
প্রতিবেশী নীতিতে চীন বনাম ভারত ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের অনন্য ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর বিশেষ আলোকপাত করেন আরএসএস প্রধান। তিনি এক বিদেশী পরিদর্শকের সঙ্গে ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে তাঁর একটি অতীতের কথোপকথনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সহযোগিতার জন্য ভারত সর্বদা প্রস্তুত থাকলেও, আমেরিকার শর্তগুলোতে প্রায়শই কেবল মার্কিন স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, যা প্রকৃত বন্ধুত্বের পরিপন্থী।
পাশাপাশি, চরম সংকটের সময়ে মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলিকে ভারতের বাড়িয়ে দেওয়া আর্থিক ও মানবিক সাহায্যের উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। এই বিষয়টিকে চীনের আগ্রাসী ও ঋণফাঁদ নীতির সঙ্গে তুলনা করে ভাগবত বলেন, ভারতের নিজস্ব সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও, চরম দুর্দশাগ্রস্ত প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়ানো ভারতের চিরন্তন চরিত্র এবং মৌলিক কর্তব্যের অংশ।
সম্পদ বণ্টন ও শ্রমের মর্যাদার ওপর জোর
দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক সাম্য বজায় রাখার বার্তা দিয়ে ভাগবত বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি যেন মুষ্টিমেয় কয়েকজন পুঁজিপতির হাতে পুঞ্জীভূত বা কেন্দ্রীভূত না হয়ে পড়ে। তিনি সমাজের সমস্ত স্তরে সম্পদ ও সুযোগের ন্যায্য বণ্টনের জোরালো আহ্বান জানান। এর পাশাপাশি তিনি ‘শ্রমের মর্যাদা’ বা শারীরিক শ্রমের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ফিরিয়ে আনার কথা বলেন। তাঁর মতে, একটি সমৃদ্ধ, নৈতিক এবং পরিবেশগতভাবে টেকসই ভারত গড়ে তুলতে গেলে দেশের সমস্ত সংগঠন, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিত ও একযোগে প্রচেষ্টা চালানো অত্যন্ত জরুরি।