ভবানীপুরের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মমতা, অখিলেশ বলেছেন, ‘তাঁর পরাজয় মেনে নেওয়া উচিত…’

ভবানীপুরের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মমতা, অখিলেশ বলেছেন, ‘তাঁর পরাজয় মেনে নেওয়া উচিত…’

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর আসনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করার ঘটনাটি এবার জাতীয় রাজনীতিতেও সাড়া ফেলেছে। এই হাইপ্রোফাইল আইনি লড়াই নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সমাজবাদী পার্টি (SP) প্রধান অখিলেশ যাদব এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি একদিকে যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই পরাজয় মেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, তেমনই অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপিকে ‘অসৎ দল’ আখ্যা দিয়ে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়েছেন।

বিজেপি সৎ দল হলে কুন্দর্কির সিসিটিভি ফুটেজ দিক, দাবি অখিলেশের

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব সাফ জানান যে, ভবানীপুর আসনের নির্বাচনী ফলাফল যেহেতু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে যায়নি, তাই তাঁর এই আসনে পরাজয় স্বীকার করে নেওয়া উচিত ছিল। তবে এর পরেই তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন যে, দেশের বর্তমান শাসক দল বিজেপি আদতে একটি চরম অসৎ রাজনৈতিক শক্তি।

বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে অখিলেশ যাদব বলেন:

“আমি স্পষ্ট বলছি যে ভারতীয় জনতা পার্টি যদি সত্যিই কোনও সৎ দল হয়ে থাকে এবং নির্বাচন কমিশন যদি ভারতের সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ করতে চায়, তবে তাদের উচিত কুন্দর্কি উপনির্বাচনের সম্পূর্ণ সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রকাশ করা।”

তিনি আরও যোগ করেন, সংবাদমাধ্যম যদি কোনওভাবে ওই কুন্দর্কি উপনির্বাচনের সিসিটিভি ফুটেজটি পেয়ে যায় এবং তা প্রকাশ্যে আসে, তবে যে প্রমাণ সামনে আসবে তার জোরেই মহামান্য বিচারক আদালতে মামলা করা শ্রদ্ধেয় মমতা জির পক্ষেই চূড়ান্ত রায় দেবেন। অর্থাৎ, পরোক্ষভাবে ভোটের গণনায় জালিয়াতির দিকেই ইঙ্গিত করেছেন এসপি প্রধান।

ভবানীপুরে ১৫ হাজার ভোটে পরাজয় এবং ছাব্বিশের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৬ই জুন, ২০২৬) তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে কলকাতা হাইকোর্টে হাজির হয়ে ভবানীপুর আসনের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করার আর্জি জানিয়ে একটি ‘ইলেকশন পিটিশন’ দাখিল করেছেন। ২০২৬ সালের এই মেগা নির্বাচনে বিজেপি হেভিওয়েট তথা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ১৫,১০৫ ভোটের বড় ব্যবধানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাস্ত করেছেন। তৃণমূলের দলীয় সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ফলাফলের দিন গণনায় হওয়া কারচুপির অভিযোগের সপক্ষে করা এই আবেদনটি নিশ্চিত করতেই মূলত তৃণমূল নেত্রী হাইকোর্টের রেজিস্ট্রিতে সশরীরে উপস্থিত হয়েছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের এই আসনের ইতিহাস অত্যন্ত রোমাঞ্চকর:

  • ২০২১ সালের ইতিহাস: বিগত ২০২১ সালের সাধারণ নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে ভবানীপুর কেন্দ্রের তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় পদত্যাগ করলে, সেখানে উপনির্বাচনে দাঁড়িয়ে জয়লাভ করেছিলেন মমতা।
  • ২০২৬ সালের পটপরিবর্তন: কিন্তু ২০২৬ সালের ৪ঠা মে ঘোষিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে পুরো চিত্রটি উলটে যায়। বাংলায় বিজেপির এক ঐতিহাসিক ও বিপুল বিজয়ের পর শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং খোদ ভবানীপুর জুড়েই জোড়াফুলের দুর্গ ভেঙে পদ্মশিবিরের জয় নিশ্চিত করেন। আর এই পরাজয়কে কেন্দ্র করেই এখন কলকাতা হাইকোর্টের এজলাসে নতুন আইনি ফ্রন্ট খুলেছেন মমতা, যা নিয়ে উত্তরপ্রদেশের কুন্দর্কি উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মোদী-শাহ জুটিকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করলেন অখিলেশ যাদব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *