ইডির ১১ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা! দল বাঁচাতে স্পিকারের পাঠানো মেল দেখারও সময় পেলেন না অভিষেক

ইডির ১১ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা! দল বাঁচাতে স্পিকারের পাঠানো মেল দেখারও সময় পেলেন না অভিষেক

কলকাতা: একদিকে দলের ২০ জন সাংসদের বিদ্রোহ, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য তদন্তকারী সংস্থার জোড়া ফলার জেরা— সবমিলিয়ে এই মুহূর্তে চরম চাপের মুখে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় ভাঙন রুখতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করার সময় চাইলেও, ইডির জেরার চক্করে পড়ে স্পিকারের পাঠানো মেল দেখারও সুযোগ পেলেন না তিনি।

ইডির অফিসে ১১ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা:

গত সোমবার দিল্লির ইডি অফিসে তলব করা হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সকাল ১১টায় হাজিরা দেওয়ার পর টানা ১১ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরা শেষে রাত ১০টায় তিনি বাইরে বের হন। ঠিক এই দিনই বিকেল ৪টেয় তাঁকে দেখা করার সময় দিয়েছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।

তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ জানান, সোমবার দুপুর ২টো নাগাদ স্পিকারের দফতর থেকে অভিষেকের কাছে একটি মেল আসে। কিন্তু জেরা চলায় অভিষেকের পক্ষে সেই মেল দেখা বা উত্তর দেওয়া সম্ভব ছিল না। পরে কীর্তি আজাদ নিজেই স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানান। সোমবার রাতে ইডির জেরা শেষ হওয়ার পর অভিষেককে এই মেলের বিষয়ে জানানো হয়।

দল বাঁচাতে স্পিকারকে তিন পাতার চিঠি:

তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ বিদ্রোহী হওয়ার পর দলের অখণ্ডতা বজায় রাখতে রবিবারই স্পিকারকে তিন পাতার একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন অভিষেক। যেখানে তিনি দাবি করেন, “তৃণমূল একটি অখণ্ড রাজনৈতিক দল।” সংসদের ভেতরে যাতে কোনও পৃথক গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি না দেওয়া হয়, সেই আর্জিও জানান তিনি। কীর্তি আজাদ ও সাগরিকা ঘোষ স্পিকারের বাড়িতে গিয়ে এই চিঠি পৌঁছে দেওয়ার সময়ই অভিষেকের জন্য সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন।

আজ আবার সিআইডি-র সাড়ে ৬ ঘণ্টার জেরা:

ইডির ধাক্কা কাটতে না কাটতেই আজ, মঙ্গলবার ভবানীভবনে সিআইডি-র ম্যারাথন জেরার মুখে পড়েন অভিষেক। তাঁর ‘ডিজে বাজাব’ মন্তব্যের জেরে আজ প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা ধরে তাঁকে জেরা করেন গোয়েন্দারা। নির্ধারিত সময়ের আগেই ভবানীভবনে পৌঁছে যান তিনি এবং সন্ধ্যা ৬টার পর সেখান থেকে বের হন। সব মিলিয়ে একদিকে দল বাঁচানোর লড়াই, অন্যদিকে ইডি-সিআইডির সাঁড়াশি চাপ— দুই ফ্রন্টেই এখন জেরবার তৃণমূলের সেনাপতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *