‘বিজেপিকে সাহায্য করলে পরের বার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে!’ তৃণমূলের ভাঙন নিয়ে নওশাদের চরম হুঁশিয়ারি

‘বিজেপিকে সাহায্য করলে পরের বার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে!’ তৃণমূলের ভাঙন নিয়ে নওশাদের চরম হুঁশিয়ারি

কলকাতা: ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলায় ভরাডুবির পর থেকেই কার্যত ছন্নছাড়া দশা ঘাসফুল শিবিরের। একদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়করা দলনেত্রীর নির্দেশ অমান্য করে আলাদা ব্লক তৈরি করেছেন, অন্যদিকে দিল্লির সংসদে সিংহভাগ তৃণমূল সাংসদ সরাসরি অন্য দলে মিশে গিয়ে এনডিএ-কে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছেন। তৃণমূলের এই নজিরবিহীন ভাঙন ও কোণঠাসা পরিস্থিতি নিয়ে এবার তীব্র কটাক্ষ করলেন ভাঙড়ের আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি।

তৃণমূলের এই পরিণতির জন্য দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই কাঠগড়ায় তুলেছেন নওশাদ। তাঁর সাফ বক্তব্য, “তৃণমূলের নেতারা যে পর্যায়ের দুর্নীতি করেছেন, আজ সেই পাপের ফল ভোগ করতে হচ্ছে। বাংলায় দল ভাঙানোর নোংরা খেলা তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই শুরু করেছিলেন। তাঁরা বিরোধী দলের একজন পঞ্চায়েত প্রধানকেও ছাড়তেন না। আজ তাঁর দলই সেই সংস্কৃতির শিকার।”

মুর্শিদাবাদের সাংসদদের কাঠগড়ায় তুলে বড় বার্তা:

দলবদলের রাজনীতির তীব্র বিরোধিতা করে আইএসএফ বিধায়ক বলেন, “যাঁরা দুর্নীতি থেকে বাঁচতে বকলমে বিজেপিকে সহযোগিতা করছেন, বাংলার মানুষ তাঁদের ক্ষমা করবে না। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদ, যাঁরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিপুল ভোট পেয়ে জিতলেন, আজ তাঁরাই বিজেপিকে পরোক্ষভাবে সাহায্য করছেন! যে বিজেপি উঠতে-বসতে সংখ্যালঘুদের কোণঠাসা করার চেষ্টা করে।”

দলবদলু নেতাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে নওশাদ স্পষ্ট জানান, “আগামী নির্বাচনে এঁদের কোনও অস্তিত্ব থাকবে না। হয় এদের সরাসরি বিজেপির টিকিটে দাঁড়াতে হবে, অন্যথায় ভোটের ময়দানে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।”

১৮ জুন থেকেই কি বিধানসভায় নতুন সমীকরণ?

আগামী ১৮ তারিখ থেকে শুরু হতে চলা বিধানসভা অধিবেশন নিয়ে নওশাদের দাবি, সরকার পক্ষ সবসময় নিজেদের মনের মতো ‘গৃহপালিত বিরোধী’ সেট করতে চায়। কিন্তু এবার বিধানসভায় আসল বিরোধীর ভূমিকা পালন করতে হবে মুস্তাফিজুর বা নওশাদদেরই। যারা নিজেদের প্রধান বিরোধী দল বলে দাবি করছে, তারা আসলে পরোক্ষভাবে বিজেপিকেই সুবিধা করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *