মুসলিম পাড়ার বুথে তৃণমূল পেল মাত্র ৫ ভোট! রাজারহাটের ফল নিয়ে হাইকোর্টে তাপস

ভবানীপুরের পর এবার রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভা কেন্দ্রের হাইভোল্টেজ ভোটগণনা নিয়ে শুরু হলো আইনি লড়াই। নির্বাচনী ফলাফলকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায়। একটি নির্দিষ্ট সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথে ঘাসফুল শিবিরের মাত্র ৫টি ভোট পাওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে গণনায় কারচুপির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন তিনি।

মাত্র ৩১৬ ভোটের ব্যবধানে হার ও হাইকোর্টের দ্বারস্থ

২০২৬ সালের এই বিধানসভা নির্বাচনে রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্রে তৃণমূলের তাপস চট্টোপাধ্যায় এবং বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানৌড়িয়ার মধ্যে প্রথম থেকেই কাঁটায় কাঁটায় টক্কর চলছিল। তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী, ১৭ দফা গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত এগিয়েই ছিলেন তাপস চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু শেষ পর্বে এসে নাটকীয়ভাবে পুরো সমীকরণ বদলে যায়। চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায় মাত্র ৩১৬ ভোটের সামান্য ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। এই ফলকে ‘অস্বাভাবিক’ আখ্যা দিয়ে ভোট পুনর্গণনা এবং নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত নথি ও রেকর্ড আদালতের হেফাজতে সংরক্ষণের আবেদন জানিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী।

১৬৪ নম্বর বুথের অস্বাভাবিক পরিসংখ্যান

তৃণমূলের আপত্তির মূল কেন্দ্রে রয়েছে স্থানীয়ভাবে ‘মুসলমান পাড়া’ নামে পরিচিত ১৬৪ নম্বর বুথটি। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এই বুথের পরিসংখ্যান অত্যন্ত চমকপ্রদ:

  • মোট প্রদত্ত ভোট: ৬৫৬টি
  • বিজেপির প্রাপ্ত ভোট: ৬৩৭টি (অর্থাৎ বুথের প্রায় ৯৭ শতাংশ ভোটই গিয়েছে পদ্ম শিবিরের ঝুলিতে)
  • তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট: মাত্র ৫টি

তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ, গণনার শুরু থেকে এই বুথটিকে আলাদা রেখে দেওয়া হয়েছিল এবং শেষ পর্যায়ে এসে তড়িঘড়ি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এর গণনা শেষ করা হয়। একটি মুসলিম প্রধান পাড়ায় যেখানে তৃণমূলের মজবুত ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে, সেখানে এই ধরণের ফলাফল রাজনৈতিক বাস্তবতার সাথে কোনোভাবেই খাপ খায় না বলে দাবি তাপস চট্টোপাধ্যায়ের।

পাশের বুথের ফলের সাথে আকাশপাতাল তফাত

আদালতে পেশ করা পিটিশনে তাপস চট্টোপাধ্যায় পাশের ১৬৫ নম্বর বুথের উদাহরণ টেনে এনেছেন। সেই বুথটিতেও প্রায় ৯১ শতাংশ ভোটারই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। কিন্তু সেখানে বিজেপি পেয়েছে মাত্র ৩২টি ভোট এবং ব্যাপক ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল ও বাম প্রার্থী। একই এলাকায় পরপর দুটি মুসলিম অধ্যুষিত বুথের ফলাফলে এমন আকাশপাতাল ফারাক কীভাবে সম্ভব, তা নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন বিদায়ী তৃণমূল প্রার্থী। এখন কলকাতা হাইকোর্ট এই বুথের ভোট পুনর্গণনার আবেদনে সাড়া দেয় কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *