সাড়ে ৬ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা শেষে ভবানী ভবন থেকে সোজা কালীঘাটে অভিষেক!

সাড়ে ৬ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা শেষে ভবানী ভবন থেকে সোজা কালীঘাটে অভিষেক!

মঙ্গলবার ‘ডিজে’ মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় সিআইডি-র ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানী ভবনে টানা সাড়ে ৬ ঘণ্টা ধরে চলে এই জেরা। দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব শেষ হয় সন্ধে ৬টা ২৫ মিনিটে। সেখান থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য না করেই তিনি সোজা চলে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে। সেখানে সেই মুহূর্তে দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছিল।

বিতর্কের সূত্রপাত ও সিআইডি তলব

ঘটনার সূত্রপাত ছাব্বিশের নির্বাচনী প্রচারে অভিষেকের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। বিরোধীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছিলেন যে ৪ তারিখে রবীন্দ্রসঙ্গীতের পাশাপাশি হালকা করে ডিজেও বাজবে এবং তৃণমূলের সৌজন্যকে যেন দুর্বলতা না ভাবা হয়। আপাতদৃষ্টিতে মন্তব্যটি রসিকতা মনে হলেও, এর অন্তর্নিহিত প্রচ্ছন্ন হুমকির অভিযোগ তুলে বিধাননগর সাইবার থানায় এফআইআর দায়ের হয়। পরবর্তীকালে সেই মামলার তদন্তভার নেয় রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি। গত শুক্রবার অভিষেকের বাড়িতে নোটিস পাঠিয়ে মঙ্গলবার হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং সেই সমনে সাড়া দিয়েই এদিন ভবানী ভবনে যান তিনি।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তিত পরিস্থিতির পর থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে আইনি তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইডি ও সিআইডি-র মতো তদন্তকারী সংস্থাগুলির একাধিক মামলায় কার্যত তিনি জর্জরিত। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি জিজ্ঞাসাবাদের পরই সোজা দলনেত্রীর কাছে ছুটে যাওয়ার বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন দলের অন্দরে নেত্রীর সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগের বার্তা স্পষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ধারাবাহিক এই আইনি প্রক্রিয়াগুলি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর দীর্ঘমেয়াদী মানসিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামীর রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে এই ঘটনাপ্রবাহ যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *