বাঘ-সিংহের খাবার কেড়ে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি! কড়া তদন্তের পথে বনমন্ত্রী

বাঘ-সিংহের খাবার কেড়ে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি! কড়া তদন্তের পথে বনমন্ত্রী

রাজ্যের ১২টি চিড়িয়াখানা ও বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রে আবাসিক মাংসাশী প্রাণীদের খাবারের জন্য বরাদ্দ টাকায় বিপুল দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এল। পূর্বতন রাজ্য সরকারের আমলে বাঘ, সিংহ, চিতা বাঘের মতো অবলা প্রাণীদের খাবার সরবরাহে এই ব্যাপক কাটমানি ও অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ তুলেছেন নতুন বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাঁও। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিনি ইতিমধ্যেই কড়া তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

দুর্নীতির কারণ ও প্রেক্ষাপট

বন দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, প্রাণীদের বয়স ও সংখ্যা অনুপাতে সারা বছর কয়েক কোটি টাকা খাবারের জন্য বরাদ্দ করা হয়। মাংসের জোগান ও বাজারদরের ওঠানামার কারণে দৈনিক খরচের নির্দিষ্ট কোনো সীমা থাকে না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে দুর্নীতির জাল বোনা হয়েছে। মন্ত্রীর অভিযোগ অনুযায়ী, সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিন ছাড়া বাকি ছয় দিন অবলা প্রাণীদের প্রাপ্য মাংস দেওয়া হয়নি। প্রাণীরা নিজেদের অভাবের কথা বলতে পারে না, আর ঠিক এই সুযোগটি নিয়েই বরাদ্দে কাটছাঁট করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে একটি অসাধু চক্র।

প্রযুক্তি নির্ভর পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই বিপুল দুর্নীতি রুখতে এবং স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে রাজ্য জুড়ে সেন্ট্রাল মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করছে বন দপ্তর। সল্টলেকের অরণ্য ভবনে একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কন্ট্রোল রুম তৈরি করা হচ্ছে। সেখান থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সরাসরি নজরদারি চালানো হবে এবং রেকর্ড বুকের হিসাবের সঙ্গে প্রাণীদের দেওয়া দৈনিক মাংসের পরিমাণ ও ওষুধের ব্যবহার মিলিয়ে দেখা হবে। মনিটরিং কমিটির বদলে ডিজিটাল নজরদারির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে যাতে নতুন করে কোনো অসাধু চক্র গড়ে উঠতে না পারে।

এই ঘটনার প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। চিড়িয়াখানার কর্মী থেকে শুরু করে রাজ্য জ়ু অথরিটি এবং বন দপ্তরের শীর্ষ স্তরের আধিকারিকদের একাংশও এই তদন্তের জালে জড়িয়ে পড়তে পারেন। শুধু চিড়িয়াখানা নয়, বন দপ্তরের টিকিট কাউন্টার ও হস্তিশালাগুলিতেও এই একই নজরদারি ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে সরকারি অর্থের অপচয় যেমন কমবে, তেমনই বন্যপ্রাণীদের সঠিক পরিচর্যা ও পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *