জাহাঙ্গিরের মুক্তির দাবিতে ধুন্ধুমার! পুষ্পার স্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর

গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল নেতা ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খানের মুক্তির দাবিকে কেন্দ্র করে ফলতা মঙ্গলবার রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। অনুগামীদের বিক্ষোভ এবং পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধের জেরে পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করে পুলিশ ইতিমধ্যেই আট জনকে গ্রেফতার করেছে এবং জাহাঙ্গিরের স্ত্রী রেজিনা বিবি-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে।
বিক্ষোভের কারণ ও পুলিশের কড়া পদক্ষেপ
একাধিক দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কাজের অভিযোগে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ উত্তরবঙ্গের ভারত-নেপাল সীমান্ত থেকে জাহাঙ্গিরকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে আবাস যোজনা-সহ সরকারি প্রকল্পের অর্থ তছরুপ এবং স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে লুটপাট ও মারধরের একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশি হেফাজতে থাকা জাহাঙ্গিরকে মঙ্গলবার কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরানো হয়, যা তাঁর অনুগামীদের ক্ষোভের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এরপরই জাহাঙ্গিরের স্ত্রী রেজিনা বিবির নেতৃত্বে অনুগামীরা থানা ঘেরাওয়ের প্রস্তুতি নিলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ বাধে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা যায়, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর তাড়া খেয়ে বিক্ষোভকারীরা দৌড়ে এবং পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছেন।
প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রভাব
পরিস্থিতি হাতের নাগালের বাইরে যাওয়ার আগেই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথভাবে গোটা এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। বিক্ষোভ ও অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে দ্রুত ধরপাকড় শুরু হয় এবং আট জনকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের প্রশাসনিক কঠোরতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। দুর্নীতি ও অপরাধমূলক মামলায় অভিযুক্ত এক নেতার সমর্থনে এমন বেপরোয়া বিক্ষোভ এবং পুলিশের পাল্টা কঠোর ব্যবস্থা স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রশাসনের এই জিরো-টলারেন্স নীতি আগামী দিনে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের দাপট নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।