‘সময় কাটছে না…’, মমতা হাইকোর্টে আসতেই খোঁচা

‘সময় কাটছে না…’, মমতা হাইকোর্টে আসতেই খোঁচা

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ করেই বেলেঘাটার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক কুণাল ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে তিনি উচ্চ আদালতে হাজির হন। আদালতে এসে তিনি ভবানীপুরের নির্বাচন নিয়ে একটি হলফনামা দায়ের করেছেন। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর যেভাবে তিনি আইনি লড়াইয়ে নেমেছিলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফল নিয়েও তিনি একই পথ অবলম্বন করলেন।

আদালত চত্বরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি জানান, এই আইনি বিষয়ে শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্তারিত কথা বলবেন। দলীয় ও আদালত সূত্রে খবর, ভবানীপুর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জয়কে অবৈধ দাবি করে এবং ভোটগণনায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনেই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভোট জালিয়াতি ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের অভিযোগ

নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এবারের নির্বাচনে ইভিএম মেশিন রিগিং করা এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের অফিস থেকে ডেটা হ্যাকিংয়ের মতো মারাত্মক ঘটনা ঘটেছে। এমনকি বিজেপির কর্মীরা সিআরপিএফ-এর পোশাক পরে ভোটগণনা কেন্দ্রে প্রবেশ করেছিল বলেও তিনি দাবি করেন। প্রতিটি ইভিএম মেশিনের পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্টের দাবি জানিয়ে তিনি এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে রাজ্যে নির্বাচনের পর থেকে প্রশাসনিক রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চলছে এবং তৃণমূল কর্মীদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে বলেও সরব হয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজনৈতিক চাপানউতোর ও সম্ভাব্য প্রভাব

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আইনি পদক্ষেপের পর রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিরোধী দল বিজেপি এই ঘটনাকে চরম কটাক্ষ করেছে। পদ্ম শিবিরের নেতাদের দাবি, ক্ষমতা হারানোর পর বাড়িতে সময় কাটছে না বলেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আদালতের চত্বরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ভবানীপুরে যদি পুনরায় নির্বাচনও হয়, তাহলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার পরাজিত হবেন এবং হারের হ্যাটট্রিক করবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই আইনি লড়াইয়ের ফলে রাজ্যের বর্তমান সরকারের ওপর এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি হবে। ভবানীপুরের মতো হাইপ্রোফাইল কেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে আদালতের রায় কী হয়, তার ওপর আগামী দিনে রাজ্যের শাসনব্যবস্থা ও আইনি স্থিতিশীলতা অনেকটাই নির্ভর করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *