‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গীরকে ছাড়াতে থানায় হামলার চেষ্টা, পুলিশের তাড়া খেয়ে পুকুরে ঝাঁপ বিক্ষোভকারীদের!

‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গীরকে ছাড়াতে থানায় হামলার চেষ্টা, পুলিশের তাড়া খেয়ে পুকুরে ঝাঁপ বিক্ষোভকারীদের!

ফলতার কুখ্যাত ব্যক্তিত্ব তথা নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে দাবি করা জাহাঙ্গীর খানের মুক্তির দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা। জাহাঙ্গীরকে মুক্ত করতে তাঁর স্ত্রীর নেতৃত্বে একদল বিক্ষোভকারী থানার দিকে এগিয়ে যান এবং সেখানে হামলার চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী কঠোর অবস্থান নিলে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। এমনকি পুলিশের তাড়া খেয়ে প্রাণভয়ে বেশ কিছু বিক্ষোভকারীকে স্থানীয় পুকুরে ঝাঁপ দিতেও দেখা যায়।

থানায় হামলার চেষ্টা ও পুলিশের কড়া পদক্ষেপ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) হাতে জাহাঙ্গীর খান গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছিল। ঘটনার দিন জাহাঙ্গীরের স্ত্রীর নেতৃত্বে একদল লোক থানার অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রওনা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মিছিলটি থানার কাছাকাছি পৌঁছালে পরিস্থিতি সংঘাতপূর্ণ হয়ে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং থানায় হামলার আশঙ্কা তৈরি হতেই সক্রিয় হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করতেই বিক্ষোভকারীরা দিকবিদিক জ্ঞান হারিয়ে পালাতে শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশের ভয়ে অনেকেই পাশের পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে পার হয়ে পালাচ্ছেন।

গ্রেফতারের পটভূমি ও রাজনৈতিক উত্তেজনা

নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপ এবং এলাকায় নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরই প্রায় সপ্তাহখানেক আগে নেপাল সীমান্ত দিয়ে দেশ ছাড়ার চেষ্টার সময় এসটিএফের জালে ধরা পড়েন জাহাঙ্গীর। তদন্তকারীদের দাবি, সপরিবারে নেপালে আত্মগোপন করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। নির্বাচনের আগে নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে দাবি করা জাহাঙ্গীরের এই গ্রেফতারি এবং পরবর্তী থানা ঘেরাওয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনাকে কটাক্ষ করে একে ভোটপরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছে।

এই ঘটনার ফলে ফলতা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি যাতে পুনরায় উত্তপ্ত না হয়, সেজন্য এলাকায় পুলিশি টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *