হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আজ রাস্তায় নামছে তৃণমূল, ধর্মতলায় প্রতিবাদ সভায় মমতা

শহরের বুকে সাম্প্রতিক হকার উচ্ছেদ ইস্যুকে কেন্দ্র করে ফের একবার রাজপথে বড়সড় আন্দোলনে নামছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের চালানো উচ্ছেদ অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ জানাতে আজ, বুধবার কলকাতার ব্যস্ততম কেন্দ্র ধর্মতলায় এক বিশাল প্রতিবাদ সভার ডাক দিয়েছে দল। বিকেল ৩টেয় ধর্মতলার কেশব দাসের মূর্তির সামনে থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে। রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় চমক হলো, এই প্রতিবাদ সভায় সশরীরে উপস্থিত থেকে আন্দোলনের মূল নেতৃত্ব দিতে পারেন স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
জীবিকা ও মানবিক অধিকারের লড়াই, দাবি তৃণমূলের
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের অভিযোগ, ফুটপাত ও রাস্তার ধারে ছোটখাটো ব্যবসা করে কলকাতার হাজার হাজার পরিবার জীবনধারণ করে। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনের তরফে কোনও রকম বিকল্প ব্যবস্থা না করেই হকারদের ওপর অন্যায়ভাবে একতরফা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে, যা তাঁদের মৌলিক জীবিকাকে সম্পূর্ণ বিপন্ন করে তুলেছে।
তৃণমূলের আন্দোলন কর্মসূচির মূল লক্ষ্যগুলি হলো:
- হকারদের পাশে দাঁড়ানো: আকস্মিক এই উচ্ছেদ অভিযানের জেরে শহরের হকারদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই সভার মাধ্যমে দল হকারদের পাশে থাকার স্পষ্ট বার্তা দিতে চায়।
- রুজি-রোজগার রক্ষা: এটিকে কেবল একটি সাধারণ রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে না দেখে, খেটে খাওয়া মানুষের রুজি-রোজগার বাঁচানোর এবং মানবিক অধিকারের লড়াই হিসেবে তুলে ধরছে ঘাসফুল শিবির।
- সংগঠনের শক্তিপ্রদর্শন: শহরাঞ্চলে হকারদের একটি অত্যন্ত বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক ভোটভিত্তি রয়েছে। তাই এই মেগা সভার মাধ্যমে কলকাতার বুকে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ফের একবার ঝালিয়ে নিতে চাইছে তৃণমূল।
আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন ও একতরফা পদক্ষেপের অভিযোগ
এর আগেও হকার উচ্ছেদ এবং বেআইনি নির্মাণ ভাঙার ইস্যুতে বর্তমান প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অত্যন্ত কড়া ভাষায় সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ ছিল, ফুটপাতের গরিব ব্যবসায়ীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও ন্যূনতম সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি কোনও আইনি প্রক্রিয়া বা নিয়মনীতি অনুসরণ না করেই গায়ের জোরে উচ্ছেদ ও ভাঙচুর চালানো হচ্ছে।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কোনও নির্মাণ বা দোকানে যদি কোনও ধরণের আইনি অনিয়ম থেকেও থাকে, তবে আইন অনুযায়ী তাঁদের জরিমানা করার বা ভুল সংশোধনের একটি সুযোগ দেওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমান নতুন প্রশাসন সেই সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সম্পূর্ণ একতরফাভাবে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধেই বুধবার ফের ধর্মতলার রাজপথকে বেছে নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।