মেসির হ্যাটট্রিকেই ট্রোলের বন্যায় ভাসছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী!

মেসির হ্যাটট্রিকেই ট্রোলের বন্যায় ভাসছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী!

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই মাঠে নেমে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে একগুচ্ছ রেকর্ড নিজের ঝুলিতে পুরেছেন ৩৯ বছর বয়সী ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসি। তবে মেসির এই রাজকীয় পারফরম্যান্সের রেশ কাটতে না কাটতেই ওপার বাংলার সোশ্যাল মিডিয়ায় আচমকা শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে চরম কটাক্ষ ও হাসাহাসি। গত ডিসেম্বরে কলকাতায় মেসির আগমন এবং তাঁর কোমরে হাত দিয়ে অরূপ বিশ্বাসের ছবি তোলার ঘটনাটিকে টেনে এনে নেটিজেনরা এখন মেতে উঠেছেন রসাত্মক ট্রোলে।

মেসির সাফল্যে ‘অরূপ-স্মরণ’

সোশ্যাল মিডিয়ায় ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ মজার ছলে দাবি করছেন, প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর সেই জাদুকরি ছোঁয়ার কারণেই নাকি বিশ্বকাপে মেসির এই দুর্দান্ত ফর্ম। নেটপাড়ার অনেকেই বলছেন, ‘গুরুজনদের হাত মাথায় না থেকে পেটে বা কোমরে ছিল বলেই মেসি আজ হ্যাটট্রিক করতে পেরেছেন।’ কেউ আবার রসিকতা করে লিখেছেন, মেসি নাকি নিজের এই তিনটি গোলই তাঁর ‘বাল্যবন্ধু’ অরূপ বিশ্বাসকে উৎসর্গ করেছেন। মূলত অতীতে মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ক্ষোভ থেকেই এই ট্রোলের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।

পুরনো ক্ষোভ ও আইনি জটিলতার জের

মেসির কলকাতা সফরকালে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সৃষ্ট বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জন্য ফুটবলপ্রেমীরা দীর্ঘদিন ধরেই তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে দায়ী করে আসছিলেন। সেই ক্ষোভের জেরে পরবর্তীতে তিনি মন্ত্রিত্ব ছাড়তে বাধ্য হন এবং বিধানসভা নির্বাচনেও হারের মুখ দেখেন।

বিতর্কের জল শুধু সোশ্যাল মিডিয়াতেই আটকে নেই, গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। মেসির কলকাতা সফরের আয়োজক শতদ্রু দত্তের অভিযোগের ভিত্তিতে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে এবং অনুষ্ঠান বন্ধের হুমকি দিয়ে ২২,০০০ কম্প্লিমেন্টারি টিকিট ও অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড হাতিয়ে নিয়ে তা কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি করা হয়েছিল। এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের রক্ষাকবচ থাকলেও পুলিশের একাধিক সমন এড়িয়ে গেছেন তিনি। আজ মেসির হ্যাটট্রিকের পর আয়োজক শতদ্রু দত্ত নিজেই খোঁচা দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, অরূপ বাবু যেন এবার অন্তত আত্মগোপন ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *