বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা পাচ্ছেন ৪০ কোটি, বিস্ফোরক হিসাব দিলেন মহুয়া মৈত্র

মহারাষ্ট্রের পর এবার পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও সাংসদ কেনাবেচার অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে শিবির) নেতা সঞ্জয় রাউতের বিস্ফোরক দাবির রেশ ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। নাম না করে নিজের দলের বিদ্রোহীদের নিশানা করে তিনি দাবি করেছেন, বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা সরাসরি ৪০ কোটি টাকা পাচ্ছেন।
মহুয়ার বিস্ফোরক হিসাব ও ‘হানি প্লাস মানি’ কটাক্ষ
মহারাষ্ট্রে উদ্ধব শিবিরের সাংসদ ভাঙাতে ১৫ কোটি টাকা করে দেওয়া হচ্ছে বলে সঞ্জয় রাউত যে দাবি করেছিলেন, তার প্রেক্ষিতেই মুখ খোলেন মহুয়া মৈত্র। তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের ইঙ্গিত করে সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “মাত্র ১৫ কোটি টাকায়? সস্তায় কেন যাচ্ছেন? আমার বিশ্বাস যে আমাদের গুলো সরাসরি চার কোটি টাকা পেয়েছেন। আর বাকি থাকা ৩৬ মাসের জন্য মাসিক এক কোটি টাকা পাবে। হানি প্লাস মানি।” মহুয়ার এই চাঞ্চল্যকর গাণিতিক হিসাব ও মন্তব্য ঘিরে রাজ্য এবং জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গেছে।
নেপথ্যে দলবদলের সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের কয়েকজন বিদ্রোহী সাংসদ খাতায়-কলমে বিজেপিতে যোগ না দিয়ে কার্যত অস্তিত্বহীন দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআইয়ের সঙ্গে মিশে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এই দলবদলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে তাঁরা দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবদের সঙ্গে বৈঠকও করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপিআইয়ের মাধ্যমে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে সমর্থন করার এই কৌশল মূলত দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়ানোর একটি আইনি রাস্তা। তবে মহুয়া মৈত্রের এই প্রকাশ্য অভিযোগের পর বিরোধী দলগুলির নৈতিকতা ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। এই টাকার খেলা এবং দলবদলের জল্পনা আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে দলত্যাগ বিরোধী আইন সংশোধন ও রাজনৈতিক দলগুলির নির্ভরযোগ্যতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।