ফর্ম পূরণ করলেই কি মিলবে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা! জনকল্যাণ শিবির নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যজুড়ে চলমান তিন দিনের জনকল্যাণ শিবিরকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে তৎপর নবান্ন। মঙ্গলবার কার্শিয়াং সফর শেষে নবান্নে ফিরে জেলাশাসক ও শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই শিবির মানুষের সুবিধার জন্য, কোনোভাবেই ভোগান্তির জন্য নয়। সাধারণ মানুষকে যাতে শিবির থেকে খালি হাতে ফিরতে না হয় এবং তাঁরা যেন সমস্ত সরকারি পরিষেবা সম্পর্কে সঠিক ধারণা পান, সেই বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
অন্নপূর্ণা যোজনার যাচাই প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা
অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করার সঙ্গে সঙ্গেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে না, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যে ১ কোটি ৩ লক্ষ আবেদনকারীর তথ্য যাচাই করা হয়েছে। শুধুমাত্র প্রকৃত ও যোগ্য উপভোক্তারাই যাতে সরকারি আর্থিক সহায়তা পান, তা নিশ্চিত করতেই এই পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই প্রক্রিয়া চলছে। এর ফলে সরকারি তহবিলের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত হবে এবং প্রকৃত অভাবীরাই এই প্রকল্পের সুফল পাবেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
প্রবীণদের প্রতি বিশেষ নজর ও সার্বিক পরিষেবা
তীব্র গরমে প্রবীণ নাগরিকদের রোদে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বয়স্কদের সুরক্ষায় সরকারি কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবেদনপত্র পৌঁছে দেওয়া এবং তা পূরণে সাহায্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিধবা ও বার্ধক্য ভাতার আবেদন বর্তমানে বন্ধ থাকলেও, শিবিরে এর ফর্ম মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এই জট কাটাতে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দু’দিনে প্রায় ২,০৫০টি শিবিরে ২৪ লক্ষ মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, এই প্রশাসনিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিপুল সাড়া ফেলেছে, যা সরকারি পরিষেবা প্রদানে আগামীতে ব্যাপক ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।