কোলাঘাটে মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের হাতে মা খুন, কাটা মুন্ড উদ্ধার পুকুর থেকে

পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটের কাঁউরচন্ডী গ্রামে এক চরম নৃশংসতার সাক্ষী থাকল এলাকাবাসী। পারিবারিক অশান্তির জেরে নিজের ষাটোর্ধ্ব মা-কে কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খুনের পর ধড় থেকে মাথা আলাদা করার অভিযোগ উঠল ছেলের বিরুদ্ধে। নিহত বৃদ্ধার নাম ভারতী চক্রবর্তী (৬৫)। এই ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডের জেরে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্ত ছেলে বাসুদেব চক্রবর্তীকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে কোলাঘাট থানার পুলিশ।
রোজকার অশান্তি ও নৃশংস পরিণতি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মা ও ছেলের মধ্যে আকছার নানা বিষয় নিয়ে বিবাদ লেগে থাকত। গত মঙ্গলবার রাতেও তাঁদের মধ্যে তীব্র চিৎকার-চেঁচামেচি ও অশান্তি হয়। তবে প্রতিবেশীরা এটিকে রোজকার ঘটনা ভেবে বিশেষ গুরুত্ব দেননি। বুধবার সকাল থেকে ভারতী দেবীর কোনো খোঁজ না মেলায় এবং বাড়ির একটি ঘর বন্ধ থাকায় প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহ জাগে। বাসুদেবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার কথাবার্তায় চরম অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। এরপরই গ্রামবাসীরা কোলাঘাট থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে অভিযুক্তকে কড়া জিজ্ঞাসাবাদ করতেই মূল ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
পুলিশি তৎপরতা ও গ্রেফতার
তদন্তে জানা গেছে, বচসা চলাকালীন চরম উত্তেজিত হয়ে বাসুদেব তার মায়ের ওপর কুড়ুল নিয়ে চড়াও হয়। মায়ের দেহ থেকে মাথা আলাদা করে তা একটি বস্তায় ভরে বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে দেয় সে। ঘটনার খবর পেয়েই কোলাঘাট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুকুর থেকে নিহতের কাটা মুন্ডটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং মূল দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশ পুরো বাড়িটি সিল করে দিয়েছে এবং ধৃত ছেলে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে বলে পুলিশের দাবি।
ঘটনার কারণ ও এলাকার পরিস্থিতি
পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, অভিযুক্ত বাসুদেব চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকদের একাংশের অনুমান, মানসিক ব্যাধির সঠিক চিকিৎসা না হওয়া এবং তীব্র পারিবারিক অবসাদের কারণেই এই চরম হিংসাত্মক বহিঃপ্রকাশ ঘটে থাকতে পারে। এই ঘটনার পর থেকে কাঁউরচন্ডী গ্রাম জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।