গুরুত্ব হারাচ্ছে কোয়াড! মার্কিন কমান্ড থেকে সরল ‘ইন্দো’, কাশ্মীরের বিকৃত মানচিত্র ঘিরে ক্ষোভ

সম্প্রতি আমেরিকার যুদ্ধ মন্ত্রক তাদের সামরিক কমান্ডের নাম থেকে ‘ইন্দো’ বা ভারতীয় শব্দটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ‘ভারতীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কমান্ড’-এর নাম পরিবর্তন করে পুনরায় পুরনো নাম ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় কমান্ড’ বহাল করা হয়েছে। এর পাশাপাশি মার্কিন কমান্ডের ওয়েবসাইটে কাশ্মীরের একটি বিকৃত মানচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে, যেখানে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। আমেরিকার এই জোড়া পদক্ষেপে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
কারণ ও অতীত প্রেক্ষাপট
২০১৮ সালে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্ব এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ছবি তুলে ধরতে এই কমান্ডের নাম পরিবর্তন করে ‘ভারতীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কমান্ড’ রাখা হয়েছিল। কিন্তু আট বছরের মাথায় ফের পুরনো নামে ফিরে যাওয়ার কারণ হিসেবে মার্কিন যুদ্ধ মন্ত্রকের দাবি, কমান্ডের ঐতিহাসিক পরিচিতি ও প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন আধিকারিকরা অবশ্য দাবি করেছেন, নাম বদলের ফলে কমান্ডের পরিচালনগত ভূমিকা বা ভৌগোলিক কর্মপরিধির কোনো পরিবর্তন হবে না।
কূটনৈতিক প্রভাব ও কোয়াডের ভবিষ্যৎ
মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই সিদ্ধান্তে ‘কোয়াড’ বা চতুর্দেশীয় অক্ষের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এই জোটের মূল ভিত্তিই হলো ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশলগত ধারণা। ফলে ‘ইন্দো’ শব্দটি বাদ পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই এই অঞ্চলে কোয়াডের প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্ব হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন, এটি কোয়াডের কফিনে আরও একটি পেরেক। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ইন্দো’ শব্দটি কেবল একটি ভৌগোলিক পরিচয় নয়, এটি বৃহত্তর কৌশলগত গুরুত্বেরও প্রতীক, যা এই সিদ্ধান্তে অবহেলিত হয়েছে।