হকার উচ্ছেদ রুখতে এবার ধর্মতলার রাজপথে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

হকার উচ্ছেদ রুখতে এবার ধর্মতলার রাজপথে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

শিয়ালদহ থেকে হাওড়া স্টেশন— সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক এলাকায় হকার উচ্ছেদের ঘটনার প্রতিবাদে ফের রাস্তায় নামলেন ‘কালীঘাট তৃণমূল’ সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ধর্মতলায় বুকে প্ল্যাকার্ড লাগিয়ে, মানববন্ধন তৈরি করে এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হন তিনি। তাঁর সঙ্গে এই কর্মসূচিতে পা মেলান কুণাল ঘোষ, দোলা সেনের মতো দলের প্রথম সারির নেতৃত্ব। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতিবাদের নেপথ্যে যেমন রয়েছে হকারদের রুটিরুজি রক্ষার লড়াই, তেমনই রয়েছে দলের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের এক বড় পরীক্ষা।

বামেদের উত্থান রুখতে লিটমাস টেস্ট

সাম্প্রতিক সময়ে যাদবপুর স্টেশনে হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী ও সৃজন ভট্টাচার্যদের বিক্ষোভে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নজর কেড়েছিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে বামপন্থীরা যখন নতুন করে রাজনৈতিক ‘অক্সিজেন’ পেতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই ময়দানে নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বামেদের এই আকস্মিক উত্থান রুখতে এবং নিজেদের জনভিত্তি পরখ করে নিতেই দেরিতে হলেও এই হকার ইস্যুকেই বেছে নিয়েছে ‘কালীঘাট তৃণমূল’। আজকের এই মিছিলকে মূলত দলের অবশিষ্ট শক্তির একপ্রকার লিটমাস টেস্ট হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

উচ্ছেদের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং ফুটপাত পথচারীদের জন্য মুক্ত করতে বিগত কিছুদিন ধরে প্রশাসন ও রেলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্টেশন চত্বরে লাগাতার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এই অভিযানের ফলে হাজার হাজার হকার রাতারাতি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, যার জেরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে নিচুতলার মানুষের মধ্যে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আন্দোলনের ফলে হকার উচ্ছেদ অভিযানে সাময়িক স্থবিরতা আসতে পারে এবং পুনর্বাসনের দাবি আরও জোরালো হতে পারে। একইসঙ্গে, এই যৌথ আন্দোলনের জেরে আগামী দিনে রাজ্যের হকার রাজনীতি এবং বাম-তৃণমূল সমীকরণ কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *