দক্ষিণবঙ্গে ঝিমিয়ে বর্ষা, গরমে নাজেহাল কলকাতাবাসীর স্বস্তির বৃষ্টি কবে?

দক্ষিণবঙ্গে ঝিমিয়ে বর্ষা, গরমে নাজেহাল কলকাতাবাসীর স্বস্তির বৃষ্টি কবে?

কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা প্রবেশ করলেও তার তীব্রতা একেবারে ঝিমিয়ে পড়েছে। ফলে আষাঢ়ের শুরুতেই ভ্যাপসা ও অস্বস্তিকর গরমে নাভিশ্বাস উঠছে জনজীবনের। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এখনই এই পরিস্থিতি থেকে রেহাই মিলছে না কলকাতাবাসীর। আগামী শনিবারের আগে মহানগরে ভারী বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে দক্ষিণবঙ্গের ভাগ্যে যখন তীব্র গরম আর নামমাত্র বৃষ্টি জুটেছে, তখন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলো কিন্তু ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে ভাসতে চলেছে।

ঝিমিয়ে পড়া বর্ষা ও দক্ষিণবঙ্গের অস্বস্তি

আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, গত সপ্তাহের শুক্রবার কলকাতায় বর্ষা এসে পৌঁছালেও তা বর্তমানে অত্যন্ত নিস্তেজ অবস্থায় রয়েছে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য এবং সর্বোচ্চ আর্দ্রতা ৯০ শতাংশের ওপরে থাকায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি থাকলেও গরম অনুভূত হচ্ছে অনেক বেশি। আগামী তিন-চারদিন কলকাতায় হালকা বা বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তা সাময়িক স্বস্তি দেবে মাত্র। শনিবার থেকে কলকাতায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে। আজ কলকাতার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে এবং বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে কোনো কোনো এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা বৃষ্টি হতে পারে।

আজ দক্ষিণবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এই জেলাগুলোতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম, উল্টো ভ্যাপসা গরমের কারণে হলুদ সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস।

উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা

দক্ষিণবঙ্গের খরা পরিস্থিতির বিপরীত ছবি দেখা যাচ্ছে উত্তরবঙ্গে। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে উত্তরবঙ্গের পাঁচটি জেলা বৃষ্টিতে ভাসতে চলেছে। আজ জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারের কিছু অংশে ৭০ থেকে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এই দুই জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কোচবিহারে ৭০ থেকে ১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনায় হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা আসার পরপরই মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ার কারণেই এই শুষ্ক ও ভ্যাপসা গরমের তৈরি হয়েছে। তীব্র আর্দ্রতার কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কর্মজীবন ব্যাহত হচ্ছে এবং হিট স্ট্রোক বা ডিহাইড্রেশনের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে এবং নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *