অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে মানতে হবে কড়া নিয়ম! বড় শর্ত শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য চালু হওয়া অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে এবার বড়সড় ও কড়া নিয়মের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার ফতেপুরে আয়োজিত একটি মেগা জনকল্যাণ শিবির থেকে এই প্রকল্পের উপভোক্তাদের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্তের কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী সাফ বার্তা দিয়েছেন যে, সরকারি প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পেতে গেলে পরিবারের মহিলাদের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও সামাজিক শৃঙ্খলা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে, অন্যথায় এই সুবিধা হাতছাড়া হতে পারে।
অনুমোদনহীন ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করালে বন্ধ হবে সুবিধা
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, সন্তানদের শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং তাদের মূল স্রোতের আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করার লক্ষ্যেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
- অনুমোদনহীন স্কুল: সরকারি স্বীকৃতি বা অনুমোদন নেই এমন কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি পরিবারের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করানো হয়, তবে সেই পরিবার আর অন্নপূর্ণা যোজনার কোনও আর্থিক সুবিধা পাবেন না।
- ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান: সাধারণ পাঠ্যক্রমের বাইরে শুধুমাত্র অনুমোদনহীন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্তানদের পাঠালেও এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হবে উপভোক্তাদের। সন্তানদের আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষার আলোয় নিয়ে আসাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য বলে স্পষ্ট করেন তিনি।
বাধ্যতামূলক টিকাকরণ ও মহিলাদের নিয়মানুবর্তিতা
শিক্ষার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার ওপরেও এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশেষ জোর দিতে চাইছে নতুন ডাবল ইঞ্জিন সরকার।
- ভ্যাকসিন না নিলে বাতিল সুবিধা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, পরিবারের কোনও সদস্য যদি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ভ্যাকসিন বা সরকারি টিকা না নিয়ে থাকেন, তবে সেই পরিবারকে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা থেকে সরাসরি বঞ্চিত করা হতে পারে। জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় টিকাকরণকে এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান শর্ত করা হচ্ছে।
- মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম: এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা মূলত পরিবারের মহিলাদের স্বনির্ভর করতে দেওয়া হয়। তাই প্রকল্পের ধারাবাহিক সুবিধা বজায় রাখতে উপভোক্তা মহিলাদেরও প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট কিছু নিয়মাবলী কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রশাসনের এই নতুন কড়া গাইডলাইনের পর উপভোক্তা পরিবারগুলির মধ্যে সামাজিক সচেতনতা ও শৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরি হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।