লাগামহীন ‘ডিম থেরাপি’ রুখতে এবার কড়া নজর আদালতের, হাইকোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলা!

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের লক্ষ্য করে দেদার ডিম ছোঁড়ার ঘটনা বা তথাকথিত ‘ডিম থেরাপি’ নিয়ে এবার চরম আইনি বিপাকে পড়তে হতে পারে হামলাকারীদের। বাংলায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই নতুন ধরণের রাজনৈতিক হেনস্থার প্রবণতায় লাগাম টানতে এবার সরাসরি ময়দানে নামছে আদালত। জনপ্রতিনিধিদের ওপর এই ধরণের লাগাতার আক্রমণের ঘটনার নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় অনুসন্ধানের দাবি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ মামলা দায়ের করলেন আইনজীবী অতীন্দ্র চৌধুরী। এই মামলায় অতি সম্প্রতি ডিম হামলার শিকার হওয়া তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকেও পক্ষ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

জনস্বার্থ মামলার মূল দাবি ও উদ্দেশ্য

কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের করা এই আবেদনে মামলাকারী আইনজীবী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, প্রকাশ্য রাস্তায় বা কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় জনপ্রতিনিধিদের ওপর এভাবে অতর্কিত হামলা চালানো কোনোভাবেই সুস্থ গণতন্ত্রের লক্ষণ হতে পারে না।

আদালতের কাছে পেশ করা প্রধান আর্জিগুলি নিচে দেওয়া হলো:

  • নিরপেক্ষ বিচারবিভাগীয় অনুসন্ধান: রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ওপর ধারাবাহিকভাবে কেন এই ধরণের অপমানজনক ও বিপজ্জনক হেনস্থা ঘটছে, তার পেছনের আসল কারণ ও কোনো সুনির্দিষ্ট চক্রান্ত রয়েছে কিনা তা খুঁজে বের করতে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হোক।
  • নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: রাজ্যের সমস্ত স্তরের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং জনপ্রতিনিধিদের প্রকাশ্য স্থানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য আদালত যেন প্রশাসনকে জরুরি নির্দেশ দেয়।
  • ভবিষ্যতের জন্য কঠোর প্রতিরোধ: আগামী দিনে যাতে কোনও নাগরিক বা রাজনৈতিক কর্মী আইন হাতে তুলে নিয়ে এই ধরণের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়, তার জন্য কড়া আইনি গাইডলাইন তৈরি করা হোক।

ভোট-পরবর্তী বাংলায় প্রতিবাদের নতুন ভাষা ‘ডিম থেরাপি’

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ২০২৬ সালের এই হাইভোল্টেজ ভোট-পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গে ‘ডিম থেরাপি’ যেন প্রতিবাদের এক নতুন ও অদ্ভুত রাজনৈতিক ভাষা হয়ে উঠেছে। এই বিতর্কিত প্রবণতার সূচনা হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ডিম ছোঁড়ার ঘটনা দিয়ে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তিনি প্রথমবার উত্তেজিত জনতার এই ধরণের ডিম হামলার মুখে পড়েছিলেন।

এরপর থেকে একে একে রাজ্যের একাধিক হেভিওয়েট নেতা, বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধিকেও একই ধরণের চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। অতি সম্প্রতি কালীঘাটে খোদ দলনেত্রীর বাড়ির সামনে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় কুণাল ঘোষের মাথাতেও ডিম ছুড়ে মারে এক যুবক, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই তোলপাড় চলছে রাজ্য রাজনীতিতে।

আগামী সপ্তাহেই মামলার শুনানির সম্ভাবনা

মামলাকারী আইনজীবীর স্পষ্ট বক্তব্য, একটি গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা ক্ষোভ থাকতেই পারে এবং তা প্রকাশের নির্দিষ্ট সাংবিধানিক পথও রয়েছে। কিন্তু প্রকাশ্য দিবালোকে এই ধরণের কুরুচিকর আক্রমণ সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পক্ষে মোটেও শুভ সংকেত নয়। তাই এই নতুন ও বিপজ্জনক হুজুগে লাগাম টানতে আদালতের কড়া হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। কলকাতা হাইকোর্ট সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহেই এই অত্যন্ত সংবেদনশীল জনস্বার্থ মামলাটির শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। এখন আদালত এই ‘ডিম থেরাপি’র বাড়বাড়ন্ত রুখতে কী কড়া নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *