‘ডিম থেরাপি’ ও চোর স্লোগানের আতঙ্কে এবার নজিরবিহীন বদল খোদ মমতা ব্যানার্জির কালীঘাটের বাড়িতে!

ভোট-পরবর্তী বাংলায় শাসকদলের নেতা-নেত্রীদের লক্ষ্য করে লাগাতার ‘ডিম থেরাপি’ ও ‘চোর’ স্লোগানের জেরে এবার চূড়ান্ত সতর্কতা নেওয়া হলো খোদ তৃণমূল নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কালীঘাটের বাসভবনে। সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভের হাত থেকে ভিভিআইপি-দের রক্ষা করতে এবং কোনও ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ওই বিখ্যাত বাড়ির নিরাপত্তায় এক ধাক্কায় আনা হলো এক মস্ত বড় পরিবর্তন।
কুণাল ঘোষের ওপর হামলার পরেই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত
রাজ্যে নির্বাচনী পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের ওপর ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন আমজনতার একাংশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে অভিষেক ব্যানার্জির ওপর ডিম হামলা দিয়ে এই বিতর্কিত ট্রেন্ডের শুরু হয়েছিল। কিন্তু গত সোমবার পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায় যখন কালীঘাটে খোদ মমতা ব্যানার্জির বাড়ির ঠিক বাইরে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারে এক যুবক।
রাজ্যে চলা এই অভিনব প্রতিবাদের শিকার হয়েছেন একাধিক হেভিওয়েট নেতা:
- অভিষেক ব্যানার্জি: সোনারপুরে আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের দেখতে গিয়ে প্রথমবার ব্যাপক বিক্ষোভ ও ডিম হামলার মুখে পড়েন তিনি।
- কুণাল ঘোষ: কালীঘাটে দলনেত্রীর বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় তাঁর মাথায় ডিম এসে লাগে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
- সব্যসাচী দত্ত: রাজারহাট-নিউটাউনের এই প্রাক্তন বিধায়ককে লক্ষ্য করে শুধু ডিম নয়, প্রকাশ্য রাস্তায় গোবর পর্যন্ত ছোঁড়া হয়েছে বলে খবর।
বাড়ির চারধারে বসল নীল রঙের বিশেষ ফেন্সিং
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকেও যাতে ভবিষ্যতে এই ধরণের কোনও চূড়ান্ত আসাম্মানজনক ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সেই কারণে তাঁর বাড়ির উঠোন ও সীমানা প্রাচীর জুড়ে রাতারাতি বসিয়ে দেওয়া হয়েছে উঁচু নীল রঙের বিশেষ ফেন্সিং বা বেষ্টনী।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই নজিরবিহীন ফেন্সিং লাগানোর পেছনে মূলত দুটি প্রধান কারণকে সামনে রাখা হচ্ছে:
- বাইরে থেকে হামলা আটকানো: ফেন্সিং দেওয়ার ফলে রাস্তা থেকে কেউ চাইলেও আর বাড়ির ভেতর লক্ষ্য করে ডিম, পাথর বা অন্য কোনও আপত্তিকর সামগ্রী ছুঁড়ে মারতে পারবে না।
- গোপনীয়তা রক্ষা ও রেকি বন্ধ করা: রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের গলিটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি রেকি করার একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। রাস্তা খোলা থাকায় কখন কোন নেতা বা ভিভিআইপি মমতা ব্যানার্জির বাড়িতে ঢুকছেন বা বেরোচ্ছেন, তা বাইরে থেকে সহজেই নজরে আসছিল। নতুন এই ফেন্সিং সেই গোপনীয়তা বজায় রাখতে এবং বহিরাগতদের নজরদারি এড়াতে সাহায্য করবে।
একদা যে নেত্রীর বাড়ির দরজা সাধারণ মানুষের জন্য সবসময় খোলা থাকত, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ‘ডিম থেরাপি’র আতঙ্কে আজ সেখানেও আধুনিক ফেন্সিংয়ের ঘেরাটোপ তৈরি করতে বাধ্য হলো প্রশাসন, যা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।