যোগ দিবসে কেন বন্ধ রাস্তা, যোগ দিতে ‘বাধ্য’ সরকারি কর্মীরা, প্রশ্ন তুলে জোড়া মামলা আদালতে

২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে কেন্দ্র করে এবার নজিরবিহীন উৎসবের মেজাজ তিলোত্তমায়। আগামী ২১ জুন কলকাতায় সশরীরে উপস্থিত থাকছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রেড রোডের সেই মেগা ইভেন্টকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই যোগ-মহোৎসব ঘিরে তৈরি হলো বড়সড় আইনি জটিলতা। একদিকে কলকাতার ব্যস্ততম রাস্তা বন্ধ রাখা নিয়ে পুলিশি নোটিশকে চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে সরকারি কর্মীদের যোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক করার নবান্নের ফরমান—এই জোড়া ইস্যুতে এবার কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হলো দুটি পৃথক মামলা।
মামলা ১, রেড রোড বন্ধ কেন? পুলিশি নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে মামলা
যোগ দিবসের প্রস্তুতির জন্য ইতিমধ্যেই商品の লাইফলাইন রেড রোড বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু সপ্তাহের ব্যস্ত দিনগুলিতে এভাবে দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি বন্ধ রাখায় চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই জনহয়রানির দিকে আঙুল তুলে কলকাতা পুলিশের বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে একটি আইনজীবী সংগঠন। দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে আইনজীবীরা প্রশ্ন তুলেছেন, আমজনতার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্তব্ধ করে দেওয়ার এই পুলিশি অতিসক্রিয়তা কতটা যুক্তিযুক্ত?
মামলা ২, ‘বাধ্যতামূলক’ যোগাভ্যাস কেন? ক্ষুব্ধ কো-অর্ডিনেশন কমিটি
দ্বিতীয় আইনি লড়াইটি শুরু হয়েছে নবান্নের একটি সাম্প্রতিক নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার এবার রাজ্যের সমস্ত স্তরের সরকারি কর্মচারীদের জন্য যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করেছে। গত ১৪ জুন মুখ্যসচিবের দফতর থেকে জারি করা নির্দেশিকায় সাফ জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট সময়ে স্থায়ী থেকে অস্থায়ী—রাজ্য প্রশাসনের সমস্ত স্তরের কর্মীকে সশরীরে হাজিরা দিতেই হবে।
নবান্নের এই ফতোয়ার বিরুদ্ধেই আইনি লড়াই শুরু করেছে সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন কো-অর্ডিনেশন কমিটি। তাদের মূল বক্তব্য ও আপত্তিগুলি হলো:
- স্বেচ্ছামূলক করার দাবি: যোগ দিবসের মতো একটি কর্মসূচী বা শারীরিক কসরতের অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মচারীদের যোগদান বাধ্যতামূলক করা হবে কেন? এটিকে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক করা হোক।
- আদালতের দ্বারস্থ: এই জবরদস্তির প্রতিবাদ জানিয়েই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে সংগঠনটি। জানা গিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
গঙ্গা থেকে রেড রোড, অনন্য যোগ-উৎসবে মাতছে তিলোত্তমা
আদালতের আইনি জট কাটুক বা না কাটুক, রাজ্য ও কেন্দ্রের আয়ুষ মন্ত্রকের যৌথ উদ্যোগে যোগ দিবসের প্রস্তুতি কিন্তু চলছে পুরোদমে। গোটা কলকাতা শহরকে ইতিমধ্যেই মুড়ে ফেলা হচ্ছে কড়া নিরাপত্তার চাদরে।
এবারের উৎসবের মূল আকর্ষণগুলি নিচে দেওয়া হলো:
- গঙ্গাবক্ষে যোগাভ্যাস: মূল অনুষ্ঠানের আগের দিন অর্থাৎ ২০ জুন গঙ্গাবক্ষে ৫০০টি নৌকায় একযোগে যোগাভ্যাস করবেন রাজ্যবাসী।
- রেড রোডের মহাসমাবেশ: ২১ জুন রেড রোডের মূলমঞ্চে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে আয়োজিত হবে মূল মেগা ইভেন্ট।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় ২১ জুন দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই প্রতি বছর প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই দিনটি উদযাপন করেন। গত বছর তিনি ছিলেন বিশাখাপত্তনমে, ২০২৪-এ কাশ্মীরের শ্রীনগরে ডাল লেকের ধারে এবং ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের সদর দফতরে যোগ দিবস পালন করেছিলেন মোদী। ২০২৬ সালে তাঁর ডেস্টিনেশন কলকাতা। একদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে তীব্র উদ্দীপনা, আর অন্যদিকে জোড়া মামলার আইনি প্যাঁচ—সব মিলিয়ে যোগ দিবসের আগেই তপ্ত কলকাতার প্রশাসনিক অলিন্দ।