নন্দীগ্রামের পঞ্চায়েতে নতুন মোড়, পবিত্রদের শূন্যপদে এবার বিজেপি প্রধান!

দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে নন্দীগ্রামের বয়াল ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের অচলাবস্থা কাটল। বুধবার সর্বসম্মতিক্রমে এই পঞ্চায়েতের নতুন প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হলেন বিজেপি সদস্য রাধাকান্ত দাস। তৃণমূল ও নির্দল সদস্যদের উপস্থিতিতেই বিনা বাধায় এই নির্বাচন সম্পন্ন হয়, যা নন্দীগ্রামের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
পবিত্র ও শিউলির পদত্যাগ এবং প্রেক্ষাপট
বিধানসভা নির্বাচনের সময় থেকেই রাজনৈতিক পালাবদলের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু নন্দীগ্রাম। বয়াল ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান ছিলেন শিউলি কর এবং সেখানে বিজেপির টিকিটে জেতা সদস্য ছিলেন তাঁর স্বামী পবিত্র কর। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তাঁরা তৃণমূলে যোগ দেন এবং শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে লড়েন পবিত্র। কিন্তু নির্বাচন মিটে যাওয়ার পর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পবিত্র কর ও প্রধান শিউলি কর নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বিডিওর কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেন। এর ফলেই পঞ্চায়েতটি প্রধান-শূন্য হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা তৈরি হয়।
অচলাবস্থার অবসান ও সম্ভাব্য প্রভাব
নতুন প্রধান নির্বাচনের দিন পঞ্চায়েতে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে জয়ী উপ-প্রধান মুরশিদা বিবি, নির্দল সদস্য বাসন্তী দাস-সহ বিজেপির অন্যান্য জয়ী সদস্যরা। সকলেই রাধাকান্ত দাসকে প্রধান হিসেবে মেনে নিয়েছেন। এই নির্বাচনের ফলে পঞ্চায়েতের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক শূন্যতা ও উন্নয়নমূলক কাজের স্থবিরতা দূর হতে চলেছে। নবনির্বাচিত প্রধান জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা বজায় রেখে দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করাই এখন পঞ্চায়েতের মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নন্দীগ্রামের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় তৃণমূল ও নির্দলদের উপস্থিতিতে বিজেপির এই নির্বিঘ্ন ক্ষমতা লাভ স্থানীয় স্তরে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে সাহায্য করবে।