কালীঘাটে ফের সিআইডি, এবার কি মমতার আত্মীয়ের ফ্ল্যাটে তল্লাশি!

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়া কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে আবারও রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি-র হানা। তবে এবার সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে নয়, তাঁরই এক আত্মীয়ের ফ্ল্যাটে পৌঁছে গিয়েছেন তদন্তকারীরা। আজ দুপুরে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ২৯/ডি নম্বরের একটি ফ্ল্যাটে সিআইডি আধিকারিকদের এই অতর্কিত আগমনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ফ্ল্যাটের দ্বিতীয় তলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক বোন থাকেন। ফ্ল্যাটে ঢোকার আগে তদন্তকারীরা স্থানীয় বাসিন্দাদেরও বেশ কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে ঠিক কোন মামলার তদন্তে এই পদক্ষেপ, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তদন্তের সূত্র ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
সাম্প্রতিক সময়ে বিধায়কদের সই জাল করার মামলা এবং ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে একাধিকবার হানা দিয়েছে সিআইডি। কিছুদিন আগেই মমতার কালীঘাটের বাড়ির সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়েও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। এই সই জাল মামলার প্রেক্ষিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইতিমধ্যেই ভবানী ভবনে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন গোয়েন্দারা, যদিও হাইকোর্ট থেকে তিনি বর্তমানে ২১ দিনের রক্ষাকবচ পেয়েছেন। কিন্তু আজ দুপুরের এই নতুন অভিযান পূর্ববর্তী মামলার সূত্র ধরে নাকি সম্পূর্ণ নতুন কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে।
তীব্র চাপানউতোর ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযানকে সম্পূর্ণ ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় দাবি করেছেন যে, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ঘটনা শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাতকে আরও উসকে দেবে এবং এর প্রভাব আগামী নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলার ওপরেও পড়তে পারে।