আর জি কর মামলায় সিবিআইয়ের কড়া নজর, তড়িঘড়ি সৎকার নিয়ে প্রাক্তন বিধায়ককে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ!

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন করে গতি পেয়েছে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলার তদন্ত। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই) ফাইল নতুন করে খোলার পর থেকেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার নিউটাউনের সিবিআই দপ্তরে হাজিরা দিলেন জলহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ। ঘটনার দিন তাঁর ভূমিকা ঠিক কী ছিল, তা খতিয়ে দেখতেই মূলত এই জিজ্ঞাসাবাদ বলে সিবিআই সূত্রে জানা গেছে।
সৎকার নিয়ে রহস্যের জট
তদন্তকারীদের মূল নজর এখন ঘটনার দিন নির্যাতিতার মৃতদেহ তড়িঘড়ি সৎকার করার প্রক্রিয়ার ওপর। অভিযোগ উঠেছে, ময়নাতদন্তের পর কারও কোনো মতামত না নিয়েই মৃতদেহ জলহাটি শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, নির্যাতিতার পরিবারের দাবি— মৃতদেহ দ্রুত দাহ করার জন্য তাঁদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে অভিযোগ। হাসপাতাল থেকে দেহ বের করার সময় থেকে শুরু করে শ্মশানঘাট পর্যন্ত তাঁর উপস্থিতি এবং সক্রিয়তা তদন্তকারীদের মনে একাধিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তদন্তের গতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
সিবিআই সূত্রে খবর, এর আগে জলহাটি শ্মশানের ইনচার্জ ভোলানাথ পাত্রকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই নির্মল ঘোষকে তলব করা হয়। ঘটনার রাতে কার নির্দেশে তিনি শ্মশানে গিয়েছিলেন, কেনই বা মৃতদেহ দ্রুত সৎকারের জন্য এত তৎপরতা দেখানো হয়েছিল— এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন গোয়েন্দারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রাক্তন এই বিধায়কের বয়ান এবং সৎকার প্রক্রিয়ার পেছনের সত্যতা সামনে এলে এই হাইপ্রোফাইল মামলার মোড় সম্পূর্ণ ঘুরে যেতে পারে এবং এর পেছনে থাকা বড় কোনো প্রভাবশালী মহলের নামও প্রকাশ্যে আসতে পারে।