‘ওটা আগে’, আরজি কর কাণ্ডে কার নির্দেশে তড়িঘড়ি সৎকার তা সিবিআইকে জানালেন শ্মশানকর্মীরা!

‘ওটা আগে’, আরজি কর কাণ্ডে কার নির্দেশে তড়িঘড়ি সৎকার তা সিবিআইকে জানালেন শ্মশানকর্মীরা!

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নির্যাতিতার শেষকৃত্য নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের রহস্য উদ্ঘাটনে নতুন তৎপরতা দেখাল সিবিআই। মৃতদেহ অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে দাহ করার পিছনে কোনো প্রভাবশালী চাপ বা গভীর ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চার সদস্যের একটি বিশেষ দল উত্তর চব্বিশ পরগনার জলহাটি শ্মশানে অভিযান চালিয়েছে। সেখানে কর্মরত কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সেই রাতের নথিপত্র ও রেজিস্টার খাতা পরীক্ষার পর উঠে এসেছে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের নাম, যা এই মামলার তদন্তে নতুন মোড় এনে দিয়েছে।

মাঝরাতের তৎপরতা ও প্রভাবশালীদের উপস্থিতি

তদন্তকারীদের মুখোমুখি হয়ে জলহাটি শ্মশানের কর্মীরা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৯ আগস্টের সেই নৃশংস ঘটনার রাতে সচরাচর নিয়মের বাইরে গিয়ে প্রায় রাত ১১টায় ময়নাতদন্ত হওয়া দেহটি শ্মশানে আনা হয়। শ্মশানকর্মীদের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার ভয়াবহতা বা এর পেছনের রহস্য সম্পর্কে তারা তখন অন্ধকারে ছিলেন। সাধারণ কোনো দুর্ঘটনা মনে করেই তারা কাজ করছিলেন। তবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন জলহাটি পুরসভার কাউন্সিলর ও তৃণমূল নেতা সোমনাথ দে এবং তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষসহ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। শ্মশানে আগে থেকেই দুটি মরদেহ লাইনে থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালীদের নির্দেশে “ওটা আগে হয়ে যাক” বলে চিকিৎসকের দেহটি তড়িঘড়ি দাহ করার ব্যবস্থা করা হয়। এর আগে মৃতদেহ বহনকারী গাড়ির চালকও জানিয়েছিলেন, শ্মশানে পৌঁছানোর আগেই সবকিছু প্রস্তুত রাখা হয়েছিল এবং পুলিশ দ্রুত তাকে ৫০০ টাকা দিয়ে সেখান থেকে বিদায় করে।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

হাসপাতালের ভেতরে কর্তব্যরত অবস্থায় চিকিৎসকের নৃশংস মৃত্যু এবং পরবর্তীতে পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী অস্বাভাবিক দ্রুততায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করার এই ঘটনাটি শুরু থেকেই তথ্য-প্রমাণ লোপাটের বড়সড় চেষ্টার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর আরজি কর মামলার তদন্তে নতুন করে গতি এসেছে, যার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই তিনজন আইপিএস আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সিবিআই কর্মকর্তাদের এই শ্মশান পরিদর্শনের মূল কারণ ছিল ঘটনার পেছনের মূল কুশীলবদের চিহ্নিত করা। শ্মশানের রেজিস্টার খাতা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান থেকে প্রাপ্ত তথ্য আগামী দিনে এই মামলার চার্জশিট গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঘটনার রাতে প্রমাণ নষ্টের চেষ্টার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আইনি জালে জড়ানোর সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *