২৫ জুনের মধ্যে না সারলে হাতছাড়া হতে পারে নিখরচায় আয়ুষ্মান ভারতেচিকিৎসার সুযোগ!

২৫ জুনের মধ্যে না সারলে হাতছাড়া হতে পারে নিখরচায়  আয়ুষ্মান ভারতেচিকিৎসার সুযোগ!

রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্য খাতের এক বিরাট রূপান্তর ঘটতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গে নবগঠিত সরকারের হাত ধরে অবশেষে চালু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’। আগামী জুলাই মাস থেকেই রাজ্যের সাধারণ মানুষ এই ঐতিহাসিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুফল পেতে শুরু করবেন বলে প্রশাসনিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতি পরিবার বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ক্যাশলেস চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন জনকল্যাণ শিবিরের মাধ্যমে এই প্রকল্পের আবেদন ও উপভোক্তা চিহ্নিতকরণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়, সেজন্য রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক তথ্য যাচাই বা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া। সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ২৫ জুনের মধ্যে এই তথ্য যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন না হলে উপভোক্তারা এই মেগা স্বাস্থ্য বিমার তালিকা থেকে বাদ পড়ে যেতে পারেন। ফলে জনকল্যাণ শিবিরে আবেদন করার পর পরবর্তী এই অতি গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি সম্পন্ন করতে এখন ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

নিয়োগ করা হচ্ছে কর্মী এবং চলছে ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া

ভেরিফিকেশনের কাজ নিখুঁত ও দ্রুত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গ্রাউন্ড লেভেলে তথ্য যাচাই এবং ই-কেওয়াইসি (e-KYC) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য স্বাস্থ্য দপ্তরের তত্ত্বাবধানে বিপুল সংখ্যক ফিল্ড লেভেল কর্মী এবং গ্রুপ বি অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাইয়ের কাজ করছেন। প্রাথমিকভাবে তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাকে পাইলট প্রজেক্ট বা পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়ে এই কাজ শুরু করা হয়েছে। সরকারের কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে থাকা তথ্যের সাথে উপভোক্তার দেওয়া নথির মিল পাওয়া গেলেই অন-স্পট ডিজিটাল ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করা হচ্ছে।

রেশন কার্ডের ডেটাবেস ধরে চিহ্নিত করা হচ্ছে উপভোক্তাদের

প্রকৃত দুঃস্থ ও চিকিৎসার খরচ চালাতে অক্ষম পরিবারগুলোকে খুঁজে বের করতে জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের (NFSA) অধীনস্থ ডেটাবেসকে মূল উৎস হিসেবে ব্যবহার করছে প্রশাসন। এই ডেটাবেসের অন্তর্ভুক্ত অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (AAY), বিশেষ অগ্রাধিকার প্রাপ্ত (SPHH) এবং অগ্রাধিকার প্রাপ্ত (PHH) রেশন কার্ড হোল্ডারদের তালিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই কার্ডধারীদের পারিবারিক তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার পরেই তাঁদের নাম চূড়ান্তভাবে আয়ুষ্মান ভারতের উপভোক্তা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। গত ৯ জুন থেকে শুরু হওয়া এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া আগামী ২৫ জুনের ডেডলাইনের মধ্যে শেষ করতে প্রশাসনিক স্তরে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় এক বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *