তৃণমূলে বেনজির ফাটল, বিধানসভায় মুখোমুখি স্বামী-স্ত্রী ও দুই শিবির

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই এবার চূড়ান্ত রূপ নিল খোদ বিধানসভার অন্দরে। দলের বিধায়কদের প্রকাশ্য দলভাগ এবং একে অপরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণার জেরে ঘাসফুল শিবিরে এখন আড়াআড়ি ফাটল। রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় সম্পূর্ণ স্পষ্ট হয়ে গেল শাসক শিবিরের ভাঙনের ছবিটা। এই ফাটল কেবল দলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা প্রবেশ করেছে অন্দরমহলেও। একদিকে দলের প্রবীণ নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল ছেড়ে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির অংশ হওয়ার পর তাঁর স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান নিয়ে নানা কটাক্ষ তৈরি হয়েছিল। তবে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এদিন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটপন্থী অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত শিবিরের বেঞ্চেই বসেন।
ক্ষমতার লড়াইয়ে দুই শিবিরে বিভক্ত বিধায়করা
বর্তমানে বিধানসভায় তৃণমূল কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত— একদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত কালীঘাটপন্থী শিবির। বিধানসভার মোট ৮০ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে এদিন স্পষ্ট দলভাগ দেখা গেছে। বিদ্রোহী শিবিরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন হেভিওয়েট নেতা ফিরহাদ হাকিমসহ ৩৮ জন বিধায়ক। অন্যদিকে, কালীঘাটপন্থী শিবিরে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, কুণাল ঘোষদের সঙ্গে দেখা গেছে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে, যেখানে বিধায়ক সংখ্যা ১৪। দুই পক্ষই এদিন বিধানসভায় বসার ক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখেন।
ভাঙনের নেপথ্য কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
এই নজিরবিহীন ভাঙনের সূত্রপাত মূলত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। দলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করলেও, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে নিজে বিরোধী দলনেতা পদে বসেন। এর জেরে ঋতব্রতকে দলবিরোধী কাজের জন্য বহিষ্কার করা হলেও আইনি লড়াইয়ে আপাতত স্বস্তিতে রয়েছেন তিনিই। কলকাতা হাইকোর্ট কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দেওয়ায় আগামী ২৮ জুলাই পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা থাকছেন। এদিকে বিদ্রোহীদের দাবি, তাঁদের পক্ষে বিধায়ক সংখ্যা বেড়ে এখন ৬৫ হয়েছে এবং তাঁরাই আসল তৃণমূল। এই পরিস্থিতির জেরে আগামী দিনে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের রাশ কার হাতে থাকবে এবং সুদীপ-নয়নার মতো পারিবারিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।