১৫ জুলাই থেকেই কার্যকর হচ্ছে ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, বদলে যাবে দুই দেশের অর্থনীতির খতিয়ান!

১৫ জুলাই থেকেই কার্যকর হচ্ছে ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, বদলে যাবে দুই দেশের অর্থনীতির খতিয়ান!

ভারত ও ব্রিটেনের অর্থনৈতিক সম্পর্কে সূচনা হতে চলেছে এক নতুন অধ্যায়ের। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১৫ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে চলেছে দুই দেশের মধ্যকার বহু প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, যা ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ বা সিইটিএ নামে পরিচিত। গত বুধবার কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক এবং দিল্লিতে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার লিন্ডি ক্যামেরন পৃথক বিবৃতিতে এই ঐতিহাসিক দিনক্ষণ ঘোষণা করেছেন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার বাজারে দুই দেশের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

চুক্তির প্রেক্ষাপট ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব

বিগত বছরের ২৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লন্ডন সফরের সময় এই চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর করা হয়েছিল। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মোদী এই সমঝোতাকে দুই দেশের যৌথ সমৃদ্ধির একটি দীর্ঘমেয়াদি নীলনকশা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। ব্রিটেনের অর্থনীতিতেও এই চুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম। ২০২০ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার (ব্রেক্সিট) পর আর কোনও দেশের সঙ্গে এটিই ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক চুক্তি। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল এবং ব্রিটেনের বাণিজ্যমন্ত্রী জোনাথন রেনল্ডের দীর্ঘ আলোচনার পর এই সমঝোতা চূড়ান্ত রূপ পায়, যা আগামী মাস থেকে পণ্য, পরিষেবা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন দরজা খুলে দেবে।

বাণিজ্যিক কারণ ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব

মূলত দুই দেশের মধ্যে শুল্ক হ্রাস, বাজারে প্রবেশাধিকারের সুযোগ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যেই এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি কার্যকর করা হচ্ছে। এই চুক্তির ফলে ভারতীয় পোশাক, ওষুধ, প্রকৌশল পণ্য, কৃষিজাত দ্রব্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) পরিষেবার জন্য ব্রিটিশ বাজারে এক বিশাল রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরি হবে। অন্যদিকে, ব্রিটিশ সংস্থাগুলিও ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুবর্ণ সুযোগ পাবে। সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩,৪০০ কোটি ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, যা আগামী দিনে উভয় দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এক ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *