কমেডির নামে চলছে চরম অশ্লীলতা, বিরিয়ানি বিতর্কে বিস্ফোরক অনিরুদ্ধাচার্য

কমেডির নামে চলছে চরম অশ্লীলতা, বিরিয়ানি বিতর্কে বিস্ফোরক অনিরুদ্ধাচার্য

স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান প্রণিত মোরের শো-তে ঘটে যাওয়া ‘৩৭০ টাকার বিরিয়ানি বিতর্ক’ নিয়ে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া। কমেডিয়ান নিজে এই ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেও বিতর্কের আগুন এখনও নেভেনি। এবার এই ইস্যুতে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন দেশের প্রখ্যাত ধর্মীয় বক্তা ও কথাবাচক অনিরুদ্ধাচার্য। তাঁর স্পষ্ট দাবি, বর্তমানে দেশে কমেডির নামে চরম অশ্লীলতা ছড়ানো হচ্ছে, অথচ তা দেখার বা আটকানোর কেউ নেই।

বিতর্কের সূত্রপাত ও অনিরুদ্ধাচার্যের প্রতিক্রিয়া

সম্প্রতি স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান প্রণিত মোরের একটি শো-এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে এক যুবককে বলতে শোনা যায়, তিনি ডেটে গিয়ে এক তরুণীকে ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খাইয়েছিলেন এবং সেই খরচ তিনি যেকোনো উপায়ে ‘উসুল’ করবেন। এই মন্তব্য ঘিরেই দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এই প্রসঙ্গে নিজের অফিসিয়াল চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রকাশ করে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন অনিরুদ্ধাচার্য। তিনি বলেন, আজকাল সমাজে কমেডির নামে অত্যন্ত আপত্তিকর ও কুরুচিকর কথা বলা হচ্ছে। ৩৭০ টাকার খাবার খাইয়ে তা উসুল করার মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এই ধরনের নোংরা রসিকতা তরুণ প্রজন্মের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর মাধ্যমে কি পরোক্ষভাবে ধর্ষণ, দুর্ব্যবহার বা নারীর চরিত্র নিয়ে খেলার মানসিকতাকে উসকে দেওয়া হচ্ছে না—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সামাজিক প্রভাব ও দ্বিচারিতার অভিযোগ

অনিরুদ্ধাচার্য এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সংবাদমাধ্যম ও সমাজের একাংশের দ্বিচারিতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর মতে, সাধু-সন্তরা যখন লিভ-ইন সম্পর্কের বিরোধিতা করে সংস্কার ও মর্যাদার কথা বলেন, তখন সংবাদমাধ্যম তাঁদের সমালোচনা করে। অথচ কমেডির নামে যখন প্রকাশ্যে নারীবিরোধী ও কুরুচিকর মন্তব্য করা হয়, তখন সবাই নীরব থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিনোদনের নামে এই ধরনের কুরুচিকর মন্তব্য সমাজে নারীর নিরাপত্তা ও সম্মানকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এই ঘটনা অলক্ষ্যে অপরাধমূলক মানসিকতাকে প্রশ্রয় দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেটিজেনদের সমর্থন ও বর্তমান পরিস্থিতি

অনিরুদ্ধাচার্যের এই বক্তব্যকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমর্থন জানিয়েছেন নেটিজেনরা। অধিকাংশ মানুষই তাঁর সুর মিলিয়ে একমত হয়েছেন যে, কমেডির একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকা উচিত।

উল্লেখ্য, এই তীব্র বিতর্কের জেরে ইতিমধ্যে চাকরি হারিয়েছেন ভিডিওতে মন্তব্য করা সেই যুবক। অন্যদিকে, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কমেডিয়ান প্রণিত মোরও নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে ভিডিও পোস্ট করার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *