উত্তরে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, দক্ষিণে ধেয়ে আসছে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ো হাওয়া!

উত্তরে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, দক্ষিণে ধেয়ে আসছে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ো হাওয়া!

বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প রাজ্যে প্রবেশ করার কারণে আগামী কয়েকদিন বাংলার আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। অনুকূল বায়ুপ্রবাহের জেরে উত্তরবঙ্গে যেমন টানা ভারী বৃষ্টির কারণে বন্যা বা ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তেমনই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

উত্তরে প্রবল বর্ষণের শঙ্কা ও সম্ভাব্য প্রভাব

আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত ২০ জুন পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করতে পারে, ওইদিন কয়েকটি জেলায় ২০ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। ইতিমধ্যেই আলিপুরদুয়ারের জয়বীরপাড়া চা বাগানে ১৮ সেন্টিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় এমন একটানা বৃষ্টির কারণে ধস নামার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নদী-নালা উপচে নিচু এলাকাগুলিতে জল জমে যান চলাচল ও সাধারণ জনজীবন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দক্ষিণে বৃষ্টির মাঝেই গুমোট গরম

অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়াতেও যথেষ্ট অস্থিরতা থাকবে আগামী এক সপ্তাহজুড়ে। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। তবে এই ঝড়বৃষ্টির মাঝেও পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি এবং গুমোট গরম বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।

এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রশাসনের তরফ থেকে সাধারণ মানুষকে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে না থাকা, বড় গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির নীচে আশ্রয় না নেওয়া এবং খুব প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *