উদ্ধবের ডাকা বৈঠকে কি আসবেন ৬ বিদ্রোহী সাংসদ, শিবসেনায় ফের বড় ভাঙনের ইঙ্গিত!

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে আবারও বড় ধরনের রাজনৈতিক ডামাডোল ও ভাঙনের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী আজ তাদের দলের সমস্ত লোকসভা সাংসদদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে। দলের চিফ হুইপ অনিল দেশাই এই বৈঠকে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক করে হুইপ জারি করেছেন। একই সঙ্গে বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট সাংসদদের পদ খারিজের জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে উদ্ধব শিবির। রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, দলের ৬ জন বিদ্রোহী সাংসদ এই বৈঠকে যোগ দেবেন কি না।
ভাঙনের নেপথ্য কারণ ও আইনি লড়াই
দলের মোট ৯ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ৬ জন সাংসদ ইতিমধ্যেই উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গ ছেড়ে মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের শিবিরে যোগ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকায় রয়েছেন সঞ্জয় যাদব, भाऊসাহেব ওয়াকচৌরে, সঞ্জয় দেশমুখ, নাগেশ পাটিল অষ্টিকর, সঞ্জয় পাটিল এবং ওমraje নিম্বালকর। এই সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি দিয়ে আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে বসার অনুমতি চেয়েছেন। বিদ্রোহীদের আশা, দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ একসঙ্গে দল ত্যাগ করায় তাঁদের ক্ষেত্রে দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রযোজ্য হবে না। অন্যদিকে, আসল শিবসেনা নির্ধারণের মামলাটি এখনও সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকায় বিদ্রোহী শিবিরকে যাতে আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া হয়, সেই আর্জি জানিয়ে স্পিকারকে পাল্টা চিঠি দিয়েছেন উদ্ধব শিবিরের নেতা অরবিন্দ सावंत। এই পরিস্থিতির মধ্যেই শিবসেনার রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউত শাসকদলের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে সাংসদ কেনাবেচা এবং চার্টার্ড ফ্লাইটে করে তাঁদের দলবদলে বাধ্য করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
জাতীয় রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
এই রাজনৈতিক ভাঙনের প্রভাব কেবল মহারাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং জাতীয় রাজনীতিতেও এর বড়সড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। লোকসভায় বর্তমানে শাসকদল এনডিএ জোটের আসন সংখ্যা ২৯৩। উদ্ধব শিবিরের এই ৬ জন সাংসদ যদি শেষ পর্যন্ত এনডিএ-তে যোগ দেন, তবে লোকসভায় সরকারি শিবিরের শক্তি এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যাবে। আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিজেপি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্রোহী সাংসদদের সমর্থন এনডিএ জোটকে সংসদের নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছে দিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।