৬৫ জনের দাবি কিন্তু বিধানসভায় হাজির ৫৮! ঋতব্রত শিবিরের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বড়সড় সংশয়

৬৫ জনের দাবি কিন্তু বিধানসভায় হাজির ৫৮! ঋতব্রত শিবিরের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বড়সড় সংশয়

অষ্টাদশ বিধানসভার প্রথম দিনেই জোর ধাক্কা খেল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। বিধানসভার বাইরে ৬৫ জন বিধায়কের সমর্থনের জোরালো দাবি করা হলেও, প্রথম দিনের অধিবেশনে বিরোধী বেঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৫৮ জন বিধায়ক। স্পিকারের স্বীকৃতি পাওয়ার পর নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে তুলে ধরার যে চেষ্টা চলছে, এই উপস্থিতির ঘাটতি সেই দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই বড়সড় সংশয় তৈরি করেছে।

দাবি ও বাস্তবের ফারাক

আদালতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার যুক্তি দেখিয়ে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া ঋতব্রত শিবির। কিন্তু এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে, যখন বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই তুঙ্গে, তখন ৭ জন বিধায়কের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। এই ঘাটতির জবাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, তিন জন বিধায়ক বিশেষ ব্যক্তিগত কারণে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে বাকিদের হিসাব না মেলায় এবং এমন একটি শক্তি প্রদর্শনের দিনে সমর্থকদের এই অনুপস্থিতি তাঁদের দাবির ভিত কতটা মজবুত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

কালীঘাট শিবিরের অস্তিত্ব জানান ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মাঝেই বিধানসভায় নিজেদের আলাদা অবস্থান জোরালোভাবে স্পষ্ট করে দিয়েছে কালীঘাটপন্থী শিবির। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং কুণাল ঘোষদের নেতৃত্বে বিরোধী বেঞ্চের অন্য প্রান্তে তাঁদের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে যে, সংখ্যার লড়াই এখনই শেষ হয়ে যায়নি। এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে বিধানসভার অন্দরে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। একইসঙ্গে, বিরোধী দল হিসেবে তাদের সম্মিলিত শক্তি প্রদর্শনের জায়গাতেও ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ৬৫ জন বিধায়কের সমর্থন থাকার দাবি বিধানসভার মেঝেতে পুরোপুরি প্রতিফলিত না হওয়ায়, আগামী দিনে ঋতব্রত শিবিরের রাজনৈতিক ও নৈতিক বৈধতা আরও কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *