রাম মন্দিরের প্রণামী ও সোনাদানা গায়েব! ভেঙে পড়া ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী

অযোধ্যার রাম মন্দিরের প্রণামী ও দানের টাকা চুরির অভিযোগে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভক্তদের কষ্টার্জিত অর্থ, নগদ টাকা এবং সোনাদানা গায়েব হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মন্দির নির্মাণ কমিটির প্রধান তথা অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার নৃপেন্দ্র মিশ্র জানিয়েছেন, মন্দিরের বর্তমান জরাজীর্ণ ও ভঙ্গুর পরিচালনা ব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত চিন্তিত এবং তিনি দ্রুত এই ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করে একটি নিয়মতান্ত্রিক পরিকাঠামো গড়তে চাইছেন।
প্রমাণ লোপাট ও তদন্তের চ্যালেঞ্জ
এই চুরির ঘটনার তদন্ত উত্তরপ্রদেশ সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) কাছে একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে মন্দিরের চরম অব্যবস্থাপনা। জানা গেছে, দানকক্ষে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণের মেয়াদ মাত্র ৪৫ দিন। এই নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর ফুটেজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে গেছে এবং তা ভবিষ্যতের জন্য ডিজিটাল আর্কাইভেও সংরক্ষণ করা হয়নি। তাছাড়া, রসিদের মাধ্যমে দেওয়া দানের হিসাব থাকলেও, সরাসরি ঈশ্বরের সামনে রাখা সোনাদানা, গয়না বা নগদ টাকার কোনো সঠিক হিসাবনিকাশ নেই। প্রমাণ না থাকায়, পরিস্থিতি সামাল দিতে তদন্তকারীদের এখন দর্শনার্থীদের সংখ্যা এবং গত ছয় মাসের দানের গাণিতিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করে হিসাব মেলানোর চেষ্টা করতে হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিতর্ক ও সম্ভাব্য প্রভাব
গত ৭ জুন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে মন্দিরের দান থেকে কোটি কোটি টাকা নিখোঁজ হওয়ার দাবি তুললে বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় লখনউয়ের ডিভিশনাল কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্ত এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে সিট গঠন করতে বাধ্য হয় রাজ্য প্রশাসন। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই রাম মন্দির ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই, প্রশাসক গোপাল রাও এবং নগদ গণনার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে মন্দির পরিচালন ব্যবস্থায় কাঠামোগত রদবদলের জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কোটি কোটি ভক্তের ধর্মীয় আবেগ ও বিশ্বাসের সাথে যুক্ত এই আর্থিক অনিয়ম প্রমাণ করে যে, ভবিষ্যতে মন্দিরের দান সংগ্রহ ও সংরক্ষণে একটি কঠোর, স্বয়ংক্রিয় এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।