নারী সুরক্ষায় শূন্য সহনশীলতা নীতি হলে গ্রেফতার হোন ঋতব্রত! বিধানসভায় বিস্ফোরক কুণাল

রাজ্যপালের অভিভাষণকে হাতিয়ার করে বিধানসভার অধিবেশনে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। নারী নির্যাতন ইস্যুতে সরকারের ঘোষিত নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি সরাসরি বিরোধী দলনেতার গ্রেফতারি দাবি করেছেন, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
নীতি ও নৈতিকতার সংঘাতে বিজেপি
বিধানসভায় কুণাল ঘোষ রাজ্যপালের ভাষণের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করেন, যেখানে নারী, শিশু এবং সমাজের প্রান্তিক মানুষের বিরুদ্ধে অত্যাচারের ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ বা জিরো টলারেন্স নীতির কথা স্পষ্ট বলা হয়েছে। তৃণমূল বিধায়কের জোরালো প্রশ্ন, এই নীতি যদি সত্যি হয়, তবে একজন মহিলার করা গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার আসনে বসানো হলো। একে শাসক শিবিরের তরফ থেকে বর্তমান বিজেপি সরকারের চরম দ্বিচারিতা বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। কুণালের দাবি, সরকার যদি তাদের নারী সুরক্ষার অবস্থানে সত্যিই অনড় থাকে, তবে অবিলম্বে ঋতব্রতকে গ্রেফতার করা উচিত।
রাজনৈতিক উত্তাপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে রাজ্যপালের ভাষণ নিয়ে আগে থেকেই সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছিল। এই অভিযোগের মূল কারণ হলো নারী সুরক্ষার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে বিরোধীদের অতীত রেকর্ড এবং বর্তমান অবস্থানের বৈপরীত্যকে জনসমক্ষে তুলে ধরা। কুণাল ঘোষের এই সুনির্দিষ্ট আক্রমণের ফলে বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর জেরে নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে বর্তমান বিজেপি সরকারকে আগামী দিনে প্রবল অস্বস্তি ও জোরালো রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হতে পারে। একই সঙ্গে, বিরোধী দলনেতার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হবে।