উচ্চমাধ্যমিকে বাজিমাত করে এবার রাজ্য জয়েন্টেও দ্বিতীয়! জোকার সৌরিদ্ধর রূপকথা ছোঁবে কোন স্বপ্নকে?

উচ্চমাধ্যমিকে বাজিমাত করে এবার রাজ্য জয়েন্টেও দ্বিতীয়! জোকার সৌরিদ্ধর রূপকথা ছোঁবে কোন স্বপ্নকে?

কলকাতা: মেধার লড়াইয়ে এ যেন এক রূপকথার জয়যাত্রা! সদ্য প্রকাশিত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার দুর্দান্ত সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষাতেও (WBJEE) নিজের মেধার ডঙ্কা বাজাল দক্ষিণ ২৪ পরগনার জোকার সৌরিদ্ধ মণ্ডল। উচ্চমাধ্যমিকে গোটা রাজ্যে দ্বিতীয় হওয়ার পর এবার রাজ্য জয়েন্টেও দ্বিতীয় স্থান ছিনিয়ে নিয়ে ‘ডাবল ধামাকা’ দিল বিবেকানন্দ মিশন স্কুলের এই কৃতী ছাত্র।

বিদ্যানগর মাঠের কাছের শ্যামদাস গ্রামের বাসিন্দা সৌরিদ্ধর এই জোড়া সাফল্যে এখন উৎসবের মেজাজ গোটা এলাকায়। মিষ্টিমুখ আর শুভেচ্ছার বন্যায় ভাসছে মণ্ডলের পরিবার।

ভবিষ্যতের লক্ষ্য কী সৌরিদ্ধর?

ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় তুখোড় সৌরিদ্ধর আগামী দিনের স্বপ্ন কম্পিউটার সায়েন্স (Computer Science) নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা। জয়েন্টের এই অভাবনীয় ফলাফল তাঁর সেই স্বপ্নের পথকে অনেকটাই মসৃণ করে দিল। তবে কম্পিউটার সায়েন্স পড়ার ইচ্ছে থাকলেও সৌরিদ্ধর সবচেয়ে ভালোবাসার বিষয় হলো গণিত।

পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলোতেও অলরাউন্ডার:

সৌরিদ্ধ মোটেই শুধু বইয়ের পোকা নয়, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতিও তার সমান আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন খেলতে সে ভীষণ ভালোবাসে। প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পড়াশোনা করলেও নিজের মনকে চাঙ্গা রাখতে নিয়ম করে খেলার মাঠে সময় কাটাত সে।

নিজের সাফল্যের কৃতিত্ব বাবা-মা এবং স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দিয়ে সৌরিদ্ধ জানায়, “বাবা-মা আর স্কুলের শিক্ষকদের অবদান সবচেয়ে বেশি। বাবা শুধু পড়াশোনাই নয়, আমার খেলার সঙ্গীও ছিলেন।”

পরিবারেই গণিতের বীজ:

ঘটনাচক্রে, সৌরিদ্ধর বাবা ও মা দুজনেই পেশায় শিক্ষক। বাবা কাস্তে কুমারী হাইস্কুলের এবং মা আমতলা নিবেদিতা বালিকা বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষিকা। স্বভাবতই অঙ্কের প্রতি ভালোবাসাটা সে পরিবার থেকেই পেয়েছে। পড়াশোনার চাপ সামলাতে বাবা সবসময় বন্ধুর মতো খেলার সঙ্গী হিসেবে তাঁর পাশে থেকেছেন।

পাঁচটা সাধারণ ছেলের মতোই খাওয়া-দাওয়ায় খুব একটা বায়নাক্কা নেই সৌরিদ্ধর। তবে পড়াশোনা ও খেলার পাশাপাশি ভোজনরসিক এই কৃতী ছাত্রের মায়ের হাতের তৈরি চিকেন এবং চিংড়ির মালাইকারি পেলে আর কিছুই চাই না। ভবিষ্যতের এই সফল ইঞ্জিনিয়ারের কৃতিত্বে এখন গর্বিত তাঁর স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে গোটা জেলা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *