‘ভারতের প্রতি চরম অন্যায় করেছেন ট্রাম্প!’ জি-৭ মঞ্চে মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের পরই বিস্ফোরক জন বোল্টন

জি-৭ সামিট (G-7 Summit): জি৭ মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহু প্রতীক্ষিত সাক্ষাতের পরই মার্কিন শুল্ক নীতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন আমেরিকার প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। তাঁর মতে, ভারতের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের চাপানো শুল্ক নীতি এক ‘বড় ভুল’ এবং চরম অন্যায়।
শুল্ক নীতি নিয়ে ট্রাম্পকে তুলোধোনা সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বোল্টন জানান, প্রায় দেড় বছর পর দুই রাষ্ট্রনেতার এই সাক্ষাৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নিরিখে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে ট্রাম্পের কড়া শুল্ক নীতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এই নীতি ভারতের ওপর অন্যায়ভাবে চাপানো হয়েছে। এটি গোটা বিশ্বের জন্যই একটি মারাত্মক ভুল পদক্ষেপ। আমেরিকার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, চিনের চেয়েও ভারতের প্রতি বেশি অবিচার করা হয়েছে।”
‘বাণিজ্য নয়, নজর দেওয়া হোক চিনের দিকে’ বোল্টনের মতে, ভারত ও আমেরিকার উচিত বাণিজ্য সংক্রান্ত এই বিতর্ক থেকে বেরিয়ে এসে চিনের তৈরি করা বৃহত্তর কৌশলগত চ্যালেঞ্জের দিকে নজর দেওয়া। তিনি সতর্ক করে বলেন, “ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের আধিপত্য বিস্তারের আগ্রাসন একুশ শতকের অন্যতম প্রধান ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। তাইওয়ান প্রণালী, দক্ষিণ চিন সাগর বা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় (LAC) বেইজিংয়ের আস্ফালন প্রমাণ করে যে বিপদ কতটা ঘনিয়ে আসছে।” তাঁর আশা, মোদী এবং ট্রাম্প আগামী দিনে বাণিজ্য চুক্তির আড়াল থেকে বেরিয়ে চিনের এই কৌশলগত হুমকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
আরও সক্রিয় হোক ‘কোয়াড’ (Quad) প্রাক্তন এই নিরাপত্তা উপদেষ্টা ভারত, আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত ‘কোয়াড’ গোষ্ঠীকে আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
- সামরিক সমন্বয়: তিনি বলেন, শুধু কূটনৈতিক স্তরে আটকে না থেকে সদস্য দেশগুলির মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সামরিক সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া উচিত।
- নতুন সদস্য: এছাড়া এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে দক্ষিণ কোরিয়া বা সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলিকেও এর কার্যকলাপে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলনের ফাঁকে মোদীকে “কড়া মধ্যস্থতাকারী” (tough negotiator) বলে উল্লেখ করেছিলেন ট্রাম্প। তবে বোল্টনের মতে, বাণিজ্য নিয়ে যতই মতবিরোধ থাকুক না কেন, এশিয়াতে চিনের আগ্রাসন রুখতে ভারত ও আমেরিকাকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একজোট হয়েই লড়তে হবে। আলাদাভাবে এই বিপদের মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।