আলিপুর আদালতে তীব্র উত্তেজনা, প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে লক্ষ্য করে ছুড়ল ডিম!

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর আইন-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমাগত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। একের পর এক হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারির জেরে রাজ্য রাজনীতিতে এখন টানটান উত্তেজনা। এই আবহেই আলিপুর আদালত চত্বরে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ও বিশৃঙ্খল ঘটনা। আদালত থেকে বের করার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছোড়া হয়, যা নিয়ে তৈরি হয় চরম ধুন্ধুমার পরিস্থিতি।
আদালত চত্বরে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও ক্ষোভ
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আলিপুর আদালত থেকে যখন প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে কড়া পুলিশি পাহারায় বের করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই বাইরে ডিম হাতে প্রস্তুতি নিয়ে থাকা একদল মানুষ তাঁর ওপর চড়াও হয়। অরূপ বিশ্বাস বের হতেই তাঁকে লক্ষ্য করে অনবরত ডিম ছুড়তে শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এই ঘটনার জেরে আদালত চত্বরের একটি আইনজীবীর চেম্বারের জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে ওই চেম্বারের আলো বন্ধ করে দিতে হয়। শেষ পর্যন্ত পুলিশি তৎপরতায় কোনোমতে তাঁকে গাড়িতে তুলে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। দুর্নীতি ও বিভিন্ন মামলায় রাজনৈতিক নেতাদের জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় জনমানসে তৈরি হওয়া তীব্র ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ এই ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।
গ্রেফতারির সিলসিলা ও রাজ্য রাজনীতির ভবিষ্যৎ প্রভাব
রাজ্যে তদন্তকারী সংস্থাগুলির সক্রিয়তা এখন তুঙ্গে। অরূপ বিশ্বাসের পাশাপাশি সম্প্রতি গ্রেফতার হয়েছেন উদয়ন গুহ এবং সুশান্ত ঘোষের মতো প্রথম সারির নেতারা। অন্যদিকে, কয়লা পাচার মামলায় দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন বুদবুদ থানার প্রাক্তন ওসি তথা রাজ্য পুলিশের অফিসার মনোরঞ্জন মণ্ডল। এই ধারাবাহিক গ্রেফতারির জেরে রাজনৈতিক দলগুলির অন্দরে যেমন চাপ বাড়ছে, তেমনই আজ কলকাতা হাইকোর্টে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায়দান রয়েছে।
সামনেই বিধানসভায় রাজ্যপাল আরএন রবির বক্তৃতা দিয়ে নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট অধিবেশন শুরু হতে চলেছে। এর পাশাপাশি ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর রাজ্য সফর এবং কলকাতায় তিন দিনব্যাপী বিশাল ড্রোন শো ও ম্যারাথনের প্রস্তুতি চলছে। এই সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে প্রাক্তন মন্ত্রীদের ওপর হামলা এবং ধারাবাহিক গ্রেফতারির ঘটনা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ এবং বিধানসভার বাজেট অধিবেশনকে আরও বেশি সংঘাতপূর্ণ করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।