যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের দ্বারস্থ জেলেনস্কি, তার মধ্যেই মস্কোর তৈল শোধনাগার ওড়াল ইউক্রেন!

যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের দ্বারস্থ জেলেনস্কি, তার মধ্যেই মস্কোর তৈল শোধনাগার ওড়াল ইউক্রেন!

চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়ে সরাসরি রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর একটি প্রধান তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। গত এক সপ্তাহের মধ্যে মস্কোর জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের আঘাত। হামলার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, ওই শোধনাগার থেকে আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে গেছে। ইউক্রেনের এই নতুন রণনীতি রাশিয়ার অভ্যন্তরে সরাসরি আঘাত হেনে তাদের অর্থনীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিভিন্ন অঞ্চলে ৫৫৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে, যার মধ্যে প্রায় ২০০টি ড্রোন মস্কোর দিকে ধাবিত হচ্ছিল। তবে সব ড্রোন প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন স্বীকার করেছেন যে, বেশ কয়েকটি ড্রোন সরাসরি তেল শোধনাগারটিতে আঘাত হেনেছে। আক্রান্ত এই শোধনাগারটি মস্কোর বিশাল জনগোষ্ঠীর পেট্রল ও অন্যান্য তেলজাত পণ্যের প্রায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ করে থাকে। ফলে এই হামলার কারণে রাশিয়ার রাজধানীতে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে রাশিয়াও কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে।

কূটনৈতিক তৎপরতা ও জেলেনস্কির হুঁশিয়ারি

এই যুদ্ধকালীন উত্তেজনার মধ্যেই ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বারস্থ হয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি জেলেনস্কি স্পষ্ট করেছেন যে, আমেরিকা তাদের প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার উদ্দেশ্যে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি ইউক্রেন জ্বলে, মস্কোও পুড়বে!”

হামলার প্রভাব ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

এই হামলার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে রণক্ষেত্রে এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে। মস্কোর মূল জ্বালানি সরবরাহে আঘাত হানার মাধ্যমে ইউক্রেন মূলত রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ জনজীবনকে চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছে। অন্যদিকে, জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি ভারতের দীর্ঘদিনের শান্তির অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের আগের স্থিতাবস্থায় ফিরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তবে কিয়েভের আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং ওয়াশিংটনের প্রচ্ছন্ন সমর্থনের ফলে যুদ্ধ এখনই থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *