কর্নাটকে উলটো খেলা, ১৬ এনডিএ বিধায়কের ভোটে জয়ী কংগ্রেস!

দেশজুড়ে যখন একের পর এক বিরোধী শিবিরে ভাঙন দেখা দিচ্ছে, ঠিক তখনই কর্নাটকের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব উলটপুরাণ ঘটল। ঝাড়খণ্ডের রাজ্যসভা নির্বাচনে ক্রসভোটিংয়ের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই কর্নাটকে বড়সড় চমক দিল কংগ্রেস। সেরাজ্যের বিধান পরিষদ নির্বাচনে এনডিএ জোটের ১৬ জন বিধায়ক কংগ্রেস প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, যা নিয়ে রীতিমতো স্তম্ভিত রাজনৈতিক মহল।
বৃহস্পতিবার কর্নাটক বিধান পরিষদের ৭টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন মোট ৮ জন, যার মধ্যে কংগ্রেসের ৫ জন, বিজেপির ২ জন এবং এনডিএ জোটের শরিক দল জেডিএসের ১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিধায়কদের সংখ্যার সাধারণ সমীকরণ অনুযায়ী কংগ্রেসের ৪টি এবং এনডিএ জোটের ৩টি আসন পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, কংগ্রেস এককভাবে ৫টি আসন দখল করেছে এবং এনডিএ পেয়েছে মাত্র ২টি আসন।
তীব্র ক্রসভোটিং এবং এনডিএ শিবিরে ভাঙন
২২৫ আসনের কর্নাটক বিধানসভায় প্রতিটি আসনে জয়ের জন্য ২৯ জন বিধায়কের সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। বর্তমানে কর্নাটকে কংগ্রেসের নিজস্ব বিধায়ক সংখ্যা ১৩৫। হিসাব অনুযায়ী তাদের সব মিলিয়ে ৪টি আসন নিশ্চিত ছিল। তবে ভোট গণনায় দেখা যায়, কংগ্রেস প্রার্থীরা মোট ১৫১টি ভোট পেয়েছেন। এর অর্থ দাঁড়ায়, এনডিএ জোটের ১৬ জন বিধায়ক নিজেদের দলের নির্দেশ অমান্য করে কংগ্রেসের পক্ষে ক্রস ভোট করেছেন। এর ফলে বিজেপির একজন প্রার্থী মাত্র ২৭ ভোট পান এবং জেডিএস প্রার্থী মাত্র ১৪ ভোট পেয়ে পরাজিত হন।
ঘটনার কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কর্নাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ডিকে শিবকুমারের চতুর রাজনৈতিক কৌশল এবং ব্যক্তিগত ক্যারিশমার কারণেই এনডিএ শিবিরে এই বড় ফাটল ধরানো সম্ভব হয়েছে। এই অপ্রত্যাশিত ফলাফলের পর চরম অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির। দলের ভেতর কারা এই ক্রসভোটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত, তা চিহ্নিত করতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। অন্যদিকে, শরিক দল জেডিএস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, দলের যেসব বিধায়ক ক্রস ভোট করে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনা দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে কংগ্রেসের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।