স্পেনকে আটকে রাতারাতি নায়ক, মায়ের বিশ্বকাপ দেখার বাধা কাটল ট্রাম্প প্রশাসনের মানবিকতায়

স্পেনকে আটকে রাতারাতি নায়ক, মায়ের বিশ্বকাপ দেখার বাধা কাটল ট্রাম্প প্রশাসনের মানবিকতায়

দেশের হয়ে প্রথম ও শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে রূপকথার জন্ম দিয়েছেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সি গোলকিপার ভোজিনহা। মহাশক্তিধর স্পেনের যাবতীয় আক্রমণ একাই রুখে দিয়ে ফুটবল বিশ্বের রাতারাতি নায়ক বনে গিয়েছেন তিনি। স্পেনের ২৮টি শটের সব ক’টি আটকে দিয়ে ম্যাচটিকে কার্যত ‘স্পেন বনাম ভোজিনহা’ দ্বৈরথে পরিণত করেছিলেন এই অভিজ্ঞ ফুটবলার। তবে স্বপ্নপূরণের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে মাঠে উপস্থিত থাকতে পারেননি তাঁর মা আনা কান্দিদা ইভোরা। ম্যাচের পর ভোজিনহা কাঁদতে কাঁদতে জানিয়েছিলেন, আর্থিক অনটন ও ভিসা সমস্যার কারণে তাঁর মা মাঠে এসে ছেলের রাজকীয় অভিষেক দেখতে পারেননি। অবশেষে সেই আক্ষেপ ঘুচতে চলেছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মা-ছেলের মেলবন্ধন ঘটতে যাচ্ছে।

কড়া নিয়ম শিথিল ট্রাম্প প্রশাসনের

সাধারণত কেপ ভার্দের নাগরিকদের জন্য আমেরিকার দরজা কার্যত বন্ধই রাখে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন প্রশাসনের আশঙ্কা, সে দেশের নাগরিকরা আমেরিকায় এলে ভিসার মেয়াদ ফুরনোর পরেও দেশে ফিরতে চান না। এই প্রবণতা রুখতে কেপ ভার্দের আমজনতার জন্য মোটা অঙ্কের জামানত নির্ধারণ করা রয়েছে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৪ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা। এত বিপুল অঙ্কের অর্থ জোগাড় করা ভোজিনহার পরিবারের পক্ষে সম্ভব ছিল না। কিন্তু স্পেনের বিরুদ্ধে ম্যাচের পর ভোজিনহার কান্না নাড়িয়ে দেয় খোদ আমেরিকার প্রশাসনকে।

কংগ্রেসের বিশেষ উদ্যোগে কাটল জট

ভোজিনহার আবেগকে সম্মান জানিয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান হাকিম জেফ্রিস। তিনি আমেরিকার সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিওর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে জানান, কেপ ভার্দের এই লড়াই বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং কোনো মায়েরই সন্তানের এমন ঐতিহাসিক মুহূর্ত মিস করা উচিত নয়। এই তৎপরতার পরেই ভোজিনহার মায়ের ভিসার আবেদন মঞ্জুর করে ট্রাম্প প্রশাসন। শুধু তাই নয়, মানবিকতার খাতিরে তাঁর সমস্ত সরকারি ফি মকুব করা হয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিশেষ সহায়তায় ইতিমধ্যেই তিনি আমেরিকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। ফলে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে কেপ ভার্দের পরবর্তী ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে ছেলের খেলা দেখতে পারবেন আনা কান্দিদা ইভোরা, যা এই বিশ্বকাপে এক নজিরবিহীন আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *