শব্দহীন প্রেমের জয়, সোশাল মিডিয়া থেকে সোজা ছাদনাতলায় মূক-বধির যুগল

শব্দহীন প্রেমের জয়, সোশাল মিডিয়া থেকে সোজা ছাদনাতলায় মূক-বধির যুগল

ওঁদের মুখের ভাষা নেই, কিন্তু মনের ভাষা বুঝতে কোনো বাধা তৈরি হয়নি। শ্রবণশক্তি না থাকলেও হৃদয়ের গভীর অনুভূতিকে সম্বল করে এক নতুন জীবনের সূচনা করলেন নদিয়ার দুই তরুণ-তরুণী। সোশাল মিডিয়ায় পরিচয়ের পর বন্ধুত্ব ও প্রেম, আর তারপর সমস্ত বাধা পেরিয়ে অবশেষে চার হাত এক হলো নদিয়ার মাজদিয়া পূর্ণগঞ্জের বাসিন্দা কৌশিক মিত্র এবং বগুলার বাসিন্দা স্নেহা পোদ্দারের। দুজনেই মূক ও বধির হলেও তাঁদের এই ভালোবাসার গল্প আজ সমাজকে এক বড় বার্তা দিচ্ছে।

ডিজিটাল দুনিয়া থেকে ছাদনাতলার সফর

সোশাল মিডিয়ায় আলাপের পর কৌশিক ও স্নেহার যোগাযোগ ক্রমশ বাড়তে থাকে। এরপর ফুটবল প্র্যাকটিসের মাঠে নিয়মিত দেখাসাক্ষাৎ তাঁদের সম্পর্ককে আরও গভীর করে তোলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে এই যুগল গোপনে বিয়ের চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে দুই পরিবার এগিয়ে আসে। উভয় পক্ষের সম্মতিতে ও উপস্থিতিতে মাজদিয়ায় কৌশিকের বাড়িতেই শাস্ত্র মতে সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান মেনে চার হাত এক হয়। এই বিয়ে যেন প্রমাণ করে দিল যে, ভালোবাসার প্রকাশের জন্য কোনো শব্দের প্রয়োজন হয় না।

ভবিষ্যতের লড়াই ও কর্মসংস্থানের আকুতি

কৌশিক মাজদিয়া কলেজ থেকে বিএ পাস করার পর আইটিআই থেকে ফিটার ট্রেডে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন। তবে উচ্চশিক্ষিত হয়েও এখনো কোনো স্থায়ী চাকরি পাননি তিনি। অন্যদিকে নববধূ স্নেহা বর্তমানে স্নাতক স্তরের পড়াশোনা চালাচ্ছেন। ছেলের বিয়েতে খুশি হলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ চিন্তিত কৌশিকের পরিবার। বর্তমানে কৌশিকের বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী হওয়ায় সংসার চললেও, তাঁদের অনুপস্থিতিতে এই বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন দম্পতি কীভাবে জীবন ধারণ করবেন, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকারের কাছে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই শিক্ষিত যুবকের জন্য একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের আবেদন জানিয়েছে তাঁর পরিবার, যাতে এই নতুন দম্পতি স্বাবলম্বী হয়ে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *